ব্যাঁটরা, নাজিরগঞ্জের পরে পরে এ বার উলুবেড়িয়া। ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ফের সরকারি আধিকারিককে ধরলেন দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকেরা। সরকারি সূত্রের খবর, উলুবেড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ওই সাব-রেজিস্ট্রারের নাম জীবনকৃষ্ণ দাস।
অভিযোগ, দলিল তৈরি করে দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই কারও থেকে ১০ হাজার, কারও থেকে ২০ হাজার বা তারও বেশি টাকা নিতেন ওই সাব-রেজিস্ট্রার। প্রেমানন্দ কর নামে এক ল’ক্লার্কের অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার ওই কার্যালয়ে অভিযান চালায় রাজ্য পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখা। সংশ্লিষ্ট দফতর সূত্রের দাবি, ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার সময়ে জীবনকৃষ্ণকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন ওই আধিকারিকেরা। তাঁর থেকে ওই টাকা উদ্ধার করা হয়। তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রেমানন্দের দাবি, এক ব্যক্তির কাজ করে দেওয়ার জন্য জীবনকৃষ্ণ টাকা দাবি করেন বলে তিনি জানতে পারেন। বিষয়টি তিনি দুর্নীতি দমন শাখায় জানান। সরকারি সূত্রের দাবি, অভিযোগ পেয়ে ফাঁদ পাতেন ওই শাখার আধিকারিকেরা। সোমবার বেলার দিকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জীবনকৃষ্ণকে ২০ হাজার টাকা দেন। টাকায় বিশেষ রাসায়নিক মাখানো ছিল। টাকা নিতেই ওই আধিকারিককে ধরেন দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকেরা। তাঁর হাত জলে ডুবিয়ে নমুনা সংগ্রহ করতেই প্রমাণ মিলে যায়। ধৃতকে জেরা করে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। ওই অন্যায় সুবিধা নেওয়ায় আরও কেউ জড়িত কি না, তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলেও কার্যালয়ের ভিতরে ধৃত আধিকারিককে জেরা চলে।
রাজ্যে পালাবদল পরই দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার পরেই সক্রিয় হয়ে ওঠে রাজ্য পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখা। এর আগে হাওড়ার ব্যাঁটরা থানায় ঘুষ নেওয়ার সময় এক সাব-ইনস্পেক্টরকে একই ভাবে ধরা হয়। নাজিরগঞ্জ তদন্ত কেন্দ্রের এক কনস্টেবলকেও একই পদ্ধতিতে ধরা হয়।