কাঁচা পাটের অভাবে গত কয়েক মাসে রাজ্যের বিভিন্ন জুটমিল বন্ধ হয়েছিল। বর্ষার মরসুমে নতুন পাট ওঠা শুরু হতেই নতুন সরকারের মধ্যস্থতায় সেগুলি খুলতে শুরু করেছে। পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পরে শনিবার খুলল রিষড়ার ওয়েলিংটন জুটমিলের তালা। এখানে স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে হাজার দেড়েক শ্রমিক রয়েছেন। তাঁদের ঘরে স্বস্তি ফিরল।
এই জুটমিল নিয়ে গত বৃহস্পতিবার কলকাতায় শ্রম দফতরে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হয়। শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিংহ, শ্রম প্রতিমন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য, শ্রমসচিব রচনা ভকত, বিশেষ শ্রম কমিশনার আশিস সরকার, শ্রীরামপুরের যুগ্ম শ্রম কমিশনার তানিয়া দত্ত উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন মিল-কর্তৃপক্ষ, শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। মিলের প্রেসিডেন্ট সত্যেন্দ্রকুমার মিশ্র এবং জেনারেল ম্যানেজার পূর্ণেন্দুজ্যোতি কুন্ডু জানান, বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবার সকালে ‘সাসপেনশন অব ওয়ার্ক’ তুলে নেওয়া হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু হয়েছে। ওই কাজ দু’সপ্তাহ চলবে। তারপরে ধাপে ধাপে উৎপাদন শুরু হবে। যত দ্রুত সম্ভব পুরোমাত্রায় উৎপাদন চালুর চেষ্টা করা হবে।
প্রধানত কাঁচা পাটের অভাবের কারণ দেখিয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মিল বন্ধ করা হয়। এই মিল ভাস্করের নির্বাচনী এলাকার মধ্যে। তিনি জানান, বৈঠকে কয়েকটি বিষয়ে জোর দেওয়া হয়। শ্রমিকের মজুরি বা গ্র্যাচুইটি, প্রভিডেন্ট ফান্ড, ইএসআইয়ের যেন বকেয়া না থাকে, সে বিষয় মিল-কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে বলা হয়। ন্যূনতম মজুরিও নিশ্চিত করতেওবলা হয়।
মিল-কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, কিছু ক্ষেত্রে গ্র্যাচুইটির টাকা বাকি আছে। ধীরে ধীরে তা দেওয়া হচ্ছে। ওই প্রক্রিয়ায় গতি বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে। অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে সমস্যা নেই। মিলের আধুনিকিকরণ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। মালিকপক্ষ জানান, নতুন যন্ত্র বসলেও কোনও শ্রমিককে কাজ হারাতে হবে না। উৎপাদনের স্বার্থে অন্য বিভাগে স্থানান্তর করা হতে পারে। নতুন বিভাগে কাজের জন্য সবেতন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
এ দিন ওয়েলিংটনের ইয়ার্ন বিভাগও খুলেছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। এখানে সুতো তৈরি হয়। শ্রমিক প্রায় আড়াইশো।
ইতিমধ্যে ভদ্রেশ্বরের নর্থ ব্রুক জুটমিলও খুলে গিয়েছে। শ্রম দফতর সূত্রের খবর, দিন তিনেক আগে ওই মিলের শ্রমিকদের আয়োজনে বিপ্লবী চন্দ্রশেখর আজাদের জন্মদিবস পালনের অনুষ্ঠানে গিয়ে সেখানকার সমস্যা সমাধানের চেষ্টার আশ্বাস দেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী। মঞ্চ থেকে নেমেই শ্রমসচিবকে ফোন করেন। মন্ত্রী বলেন, ‘‘এরপরে ওঁরা নিজেরাই মিল খুলে দেন।’’ তাঁর কথায়, ‘‘রাজ্যে বন্ধ ১৪টি মিল খুলে গেল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে শ্রমিক-দরদি সরকার আলোচনার ভিত্তিতে বন্ধ মিল খোলার ব্যাপারে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।’’
সম্প্রতি শ্রীরামপুরের ইন্ডিয়া, রিষড়ার হেস্টিংস, চন্দননগরের গোন্দলপাড়া জুটমিল খুলেছে।