জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন নদী পারাপার করতে হচ্ছে। অভিযোগ, বিগত আট বছর ধরে আবেদন জানিয়েও মেলেনি কোনও স্থায়ী সমাধান। প্রশাসনিক প্রতিশ্রুতি আর আশ্বাসের উপর ভরসা রাখতে রাখতে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে গ্রামবাসীদের। বাধ্য হয়ে সেতু নির্মাণের দাবিতে রবিবার রাস্তায় নেমে সরব হলেন স্থানীয় মহিলারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের খাঁড়াপাড়া ও গোয়ালপোতা এলাকার মাঝখানে কৌশিকী নদীর উপর অবস্থিত পুরনো কংক্রিটের সেতুটি ২০১৮ সালে হঠাৎই ভেঙে পড়ে। ওই অঞ্চলের হাজার হাজার সাধারণ মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ছিল এই সেতুটি। তা ভেঙে যাওয়ার পর প্রশাসনের তরফে আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে একটি কাঠের পোল তৈরি করে দেওয়া হয়।
পরবর্তীকালে ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে ওই একই স্থানে একটি নতুন কংক্রিটের সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাজ্য সরকারের তরফে এই প্রকল্পের জন্য ৩১০.৬৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই নতুন কংক্রিটের সেতুর শিলান্যাস করেন। শিলান্যাসের ফলকে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল, আগামী ৫৪৫ দিনের (প্রায় দেড় বছর) মধ্যে এই সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হবে। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরিয়ে ২০২৬ সালেও সেতুর কাজ শেষ হয়নি। বর্তমানে থমকে রয়েছে নির্মাণের সিংহভাগ কাজ। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, কৌশিকী নদীর উপরেই পাশের গ্রামে পরবর্তী সময়ে দু’টি নতুন কংক্রিটের সেতুর কাজ শুরু হয় এবং তা সম্পূর্ণও হয়ে গিয়েছে। কিন্তু খাঁড়াপাড়া ও গোয়ালপোতার এই গুরুত্বপূর্ণ সেতুটির কাজ এখনও আটকে রয়েছে।
আরও পড়ুন:
সম্প্রতি বর্ধমান অঞ্চল থেকে কৌশিকী নদীতে জল বাড়ায় অস্থায়ী কাঠের পোলটিও ভেঙে যায়। ফলে খাঁড়াপাড়া, গোয়ালপোতা-সহ পার্শ্ববর্তী একাধিক গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। অভিযোগ, বর্তমানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট ছোট স্কুল ও কলেজের ছাত্রছাত্রীদের বিপজ্জনক ভাবে নদী পার হতে হচ্ছে। বয়স্ক ও মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে নাভিশ্বাস উঠছে। বিকল্প যে রাস্তাটি রয়েছে তা দিয়ে যাতায়াত করতে গেলে প্রায় তিন থেকে চার কিলোমিটার বাড়তি পথ ঘুরতে হয়, যা চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে জগৎবল্লভপুর-১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে নদী পারাপারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে একটি বিজ্ঞপ্তি টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় মহিলাদের দাবি, প্রশাসনকে অবিলম্বে এই কংক্রিটের সেতু নির্মাণের কাজ শেষ করে যাতায়াতের ব্যবস্থা সুগম করতে হবে। দ্রুত দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা।
জগৎবল্লভপুরের বিজেপি বিধায়ক অনুপম ঘোষ জানান, ঠিকাদারের গাফিলতির জন্য কাজ আটকে রয়েছে। তাঁর সঙ্গে কথা বলে দ্রুত যাতে কাজ করানো যায়, তার ব্যবস্থা করা হবে।