ডেঙ্গি নিয়ে বিভিন্ন জেলাকে সতর্ক করেছে রাজ্য সরকার। হুগলি জেলাতেও মশাবাহিত এই রোগ বাড়ছে। ডানকুনি, রিষড়া, শ্রীরামপুর পুরসভার পাশাপাশি চণ্ডীতলা ১, বলাগড় ব্লকের মতো গ্রামীণ এলাকায় গত ১০ দিনে ডেঙ্গি মাথা তুলতে শুরু করছে।
জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, চলতি বছরে এ পর্যন্ত হুগলিতে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ৩১৯। গত ১০ দিনে আক্রান্তের সংখ্যা ১০০ অতিক্রম করছে। জেলার এক স্বাস্থ্যকর্তা বলেন, ‘‘ডেঙ্গি প্রতিরোধে সব রকম ব্যবস্থা নিতে জেলার বড় হাসপাতালগুলির পাশাপাশি গ্রামীণ হাসপাতাল এবং ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিকেও বলা হয়েছে। খুলতে বলা হয়েছে ফিভার ক্লিনিক।’’
প্রতি বছরেই রাজ্যে এই সময়ে ডেঙ্গির প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। গত ১০ দিনে কলকাতা-সহ সমগ্র দক্ষিণবঙ্গেই ডেঙ্গিতে আক্রান্তে সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, বলাগড় ব্লকে এ পর্যন্ত ২৭ জন ডেঙ্গি পজ়িটিভ হয়েছেন। হুগলিতে গত কয়েক বছরে ধারাবাহিক ভাবে এই ব্লকে ডেঙ্গির প্রভাব সবচেয়ে বেশি। চণ্ডীতলা ১, ডানকুনি, রিষড়া, শ্রীরামপুরে ১১ জন করে ডেঙ্গি আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে।
ডানকুনি, রিষড়া ও শ্রীরামপুর শহরে ডেঙ্গিতে বেশ কয়েক জন আক্রান্ত হলেও পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাফাই অভিযানে পুর-কর্তৃপক্ষের সে ভাবে হেলদোল নেই বলে স্থানীয়দের অনেকের অভিযোগ। মশা নিয়ন্ত্রণে তেল ছড়ানো বা অন্যান্য ব্যবস্থা যথাযথ ভাবে নেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ। ডানকুনি হাউজ়িং এলাকার এক প্রবীণ বাসিন্দার ক্ষোভ, ‘‘ঘাড়ে ধরে পুরবোর্ড ফেলা হল, কিন্তু পুরসভার কাজে গতি এল কই! এ শহরে বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়েছে। যত্রতত্র আর্বজনা। পুর কর্তৃপক্ষের দেখা মিলছে না।’’ নিকাশি নিয়ে অভিযোগ রয়েছে রিষড়া পুর এলাকাতেও।
জেলা স্বাস্থ্য দফতরের অবশ্য দাবি, ডেঙ্গি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাই নেওয়া হচ্ছে। নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ মানছেন না সংশ্লিষ্টপুর-কর্তৃপক্ষ।