জয়েন্টের উঁচু র্যাঙ্কধারীরা কি কাউন্সেলিংয়ে অবিচারের শিকার হতে চলেছেন? এ বছরের জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষায় তিন রাউন্ড কাউন্সেলিং শেষে ফাঁকা আসনগুলির জন্য অনলাইনে ডিসেন্ট্রালাইজ়ড কাউন্সেলিংয়ের নতুন পদ্ধতিতে সেই প্রশ্ন তুলছেন রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা। এই ডিসেন্ট্রালাইজ়ড বা বিকেন্দ্রীকৃত কাউন্সেলিং আগে বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ আলাদা ভাবে সারত। এ বছর জেইই বোর্ড অনলাইনে সব ক’টি সরকারি, বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে এক ছাতার নীচে এনে এই কাউন্সেলিং করছে।
জেইই বোর্ডের ঘোষণা, কোথায় কত আসন ফাঁকা তা প্রকাশ করা হবে আগামী সোমবার। ২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে কাউন্সেলিং। কিন্তু ইতিমধ্যে যাঁরা কাউন্সেলিংয়ে সুযোগ পেয়েছেন তাঁরা আর নতুন করে নিজের ভর্তির আসনটি উন্নত বা ‘আপগ্রেড’ করতে পারবেন না। যাঁরা এখনও কোথাও সুযোগ পাননি তাঁরাই এই কাউন্সেলিংয়ে বসতে পারবেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি বা সারা ভারত শিক্ষা বাঁচাও কমিটির তরফে অভিযোগ, এই পদ্ধতিতে জয়েন্টের উঁচুতে র্যাঙ্ক করা পডুয়ারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। বর্ধমানের এক ছাত্র যাদবপুরের ফার্মাসিতে ভর্তি হয়ে গেলে এখন আসন ফাঁকা থাকলেও যাদবপুর বা কলকাতায় কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বা ইলেকট্রনিক্সে ভর্তি হতে পারবেন না। অথচ তাঁর থেকে নিচু র্যাঙ্ক পেয়েও কেউ হয়তো ওই সব বিষয়ে পাঠের সুযোগ পেলেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতিরও আক্ষেপ, মেধাবী পড়ুয়ারা পশ্চিমবঙ্গের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারাবে। হয়তো যাদবপুরে কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো বিষয়ে একই ক্লাসে উঁচু র্যাঙ্কধারীদের সঙ্গে অনেক পরের র্যাঙ্কধারী পড়ুয়ারা ঢুকে পড়লেন। ভাল র্যাঙ্ক পেয়েও অনেক পড়ুয়া বঞ্চিত হলেন।
শিক্ষা দফতরের এক কর্তার অবশ্য বক্তব্য, “এ বার তিন রাউন্ড কাউন্সেলিংয়েই পড়ুয়াদের বার বার নাম নথিভুক্ত করে নতুন নতুন বাছাইয়ের অঢেল সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এখন অনেক জায়গাতেই ক্লাস শুরু হচ্ছে। এই অবস্থায় আবার কলকাতা ছেড়ে যাদবপুর বা কল্যাণী ছেড়ে কলকাতায় ভর্তির হিড়িক পড়লে সব তালগোল পাকাবে।” কলকাতার এক শিক্ষকের মতে, এই ব্যবস্থার জন্য জয়েন্ট বোর্ড কর্তৃপক্ষই দায়ী। আগেই ভর্তির নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে শূন্য আসনের ভিত্তিতে কলেজগুলির ফাঁকা আসন ভর্তি করা উচিত ছিল। তবে শিক্ষা দফতরের এক আধিকারিক বলছেন, এ বার যাদবপুরের বদলে কয়েকটি এনআইটিতেও ভর্তির আগ্রহ বেশি দেখা গিয়েছে। ফলে যাদবপুরের মতো রাজ্যের সেরা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজেও নজিরবিহীন ভাবে বেশ কিছু আসন ফাঁকা।
একই সঙ্গে, আসন ফাঁকা থাকলে উচ্চ মাধ্যমিকের নম্বর এবং জেইই মেনস-এ র্যাঙ্কের ভিত্তিতেও কিছু আসনে সুযোগ নিয়ে বিতর্ক চলছে। জেইই কর্তৃপক্ষ বলছেন, আসন ফাঁকা থাকলে এই ব্যবস্থা শুধুমাত্র কয়েকটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজেই অল্প কিছু আসনের ক্ষেত্রে খাটবে।