ক্যামেরার সামনে ঘুষ নিতে দেখা যাওয়ার পরেও কাকলি ঘোষ দস্তিদার জেলের বাইরে আছেন কী করে? বৃহস্পতিবার বারাসতের সাংসদকে বিঁধে এমনই প্রশ্ন তুলেছিলেন কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। কুণাল নারদকাণ্ড নিয়ে কটাক্ষ করার পরেই দিনই সারদাকাণ্ড নিয়ে তৃণমূল বিধায়ককে পাল্টা আক্রমণ করলেন এনসিপিআই সাংসদ কাকলি।
শুক্রবার সকালে সমাজমাধ্যমে কুণালের সঙ্গে সারদাকর্তা সুদীপ্ত সেনের একটি ছবি পোস্ট করেন কাকলি। রাজ্যের পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে নাম না-করে নিশানা করেন কুণালকে।
আরও পড়ুন:
সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে অপমান, হেনস্থার অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হয়েছিলেন কাকলি। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে বারাসত থানায় এফআইআর দায়ের হয়। কুণালকে সাত দিনের মধ্যে হাজিরা দিতে বলেছিল পুলিশ। তিনি সমনের চিঠি পাওয়ার পরের দিনই থানায় যান। বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ একগুচ্ছ নথিপত্র হাতে নিয়ে বারাসত থানায় পৌঁছোন কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়ক। পরে সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। কুণাল জানান, সমাজমাধ্যমে কে কার পোস্টে কী কটূক্তি করছেন, তার দায় তিনি নেবেন না। এ ভাবে পুলিশের সময় নষ্ট করা হচ্ছে বলেও মনে করেন তিনি।
কাকলিদের অভিযোগ ছিল, কালীঘাট তৃণমূল নিয়ন্ত্রিত আইটি সেল সমাজমাধ্যমে তাঁদের হেনস্থা করছে। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে ‘নাম’ জমা দিয়ে এসেছিলেন তিনি। পরে জানা যায়, তাঁর অভিযোগের তির ছিল কুণালের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, কুণালের নেতৃত্বে সমাজমাধ্যমে তাঁদের হেনস্থা করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বেলেঘাটার বিধায়কের জবাব, ‘‘আমার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কারও পোস্টে কটূক্তি করা হলে সেটা তাঁর সমস্যা। আমি কেন তার দায় নিতে যাব? আমার পোস্টেও তো কত জন কত রকম সমালোচনা করেন। আমার নেতৃত্বে গোটা রাজ্যে সমাজমাধ্যম জুড়ে এটা হবে, এত বড় সংগঠক আমি নই। এ ভাবে পুলিশের সময় নষ্ট হচ্ছে।’’ এর পরেই নারদ প্রসঙ্গ টেনে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘‘ক্যামেরার সামনে ঘুষ নেওয়া কাকলি এখনও বাইরে কেন? সিবিআইকে এ বার আমি সেই চিঠি দেব।’’ কুণাল এই মন্তব্য করার পরেই সারদাকাণ্ড নিয়ে কুণালকে পাল্টা নিশানা করলেন কাকলি।