E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

খরচের বহর, হামলায় হাত, তরজা তৃণমূলেই

কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের আর্জির প্রেক্ষিতে কলকাতা হাই কোর্ট ওই অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের জন্য তত্ত্বাবধায়ক আধিকারিক হিসেবে এক প্রাক্তন বিচারপতিকে নিয়োগ করেছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ অগস্ট ২০২৬ ০৮:০৬
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

লোকসভার মধ্যে আলাদা ব্লক হিসেবে বসার স্বীকৃতি পেয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে এনসিপিআই-এ যোগ দেওয়া সাংসদেরা। লোকসভার আনুষ্ঠানিক পরিচয়ে তাঁরা অবশ্য এখনও তৃণমূল! আবার বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিদ্রোহী অংশ সরকারি ভাবে বিরোধী দলের স্বীকৃতি পেলেও তৃণমূলের স্বত্বের জন্য তাদের দাবি এখনও নির্বাচন কমিশনের বিবেচনাধীন। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলেরই নানা শিবিরের মধ্যে বেড়ে চলেছে কলহ!

তৃণমূলের নামে থাকা চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ়়’ করেছে ইডি। কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের আর্জির প্রেক্ষিতে কলকাতা হাই কোর্ট ওই অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের জন্য তত্ত্বাবধায়ক আধিকারিক হিসেবে এক প্রাক্তন বিচারপতিকে নিয়োগ করেছে। দলের স্বত্ব দাবি করলেও বিদ্রোহী তৃণমূলের হাতে কোনও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের চাবি নেই। সুপ্রিম কোর্টে এই সংক্রান্ত মামলায় যে তথ্য উঠে এসেছে, তাকে হাতিয়ার করে বৃহস্পতিবার সরব হয়েছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত। সর্বোচ্চ আদালতে কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের আইনজীবী জানিয়েছেন, দলের ১৭টি দফতর চালাতে মাসে এক কোটি টাকা এবং প্রায় ২৫০ জন কর্মীর বেতন বাবদ প্রতি মাসে ৫৩ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা খরচ হয়। নিরাপত্তা কর্মীদের খরচ আলাদা। ঋতব্রতদের প্রশ্ন, কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারীর মধ্যে এই ১৭টি দফতর কোথায় কোথায়? ভানুয়াটু বা কেম্যান আইল্যান্ডে বিদেশি শাখা আছে কি না, জানা দরকার! আর এই ২৫০ জন কর্মীই বা কারা? কারণ, তৃণমূলে সর্বক্ষণের কর্মীর ব্যাপার নেই। দলীয় মুখপত্র-সহ নানা দায়িত্বে আগে কর্মরত অনেকেরই বেতন বন্ধ হয়েছে। তা হলে টাকা পাচ্ছেন কারা? সেই সঙ্গেই বিরোধী দলনেতার বক্তব্য, ‘‘তথ্যে উঠে আসছে, গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পরের ২০ দিনের মধ্যে তৃণমূলের নামে থাকা একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩৬০ কোটি টাকা জমা হয়েছে। এই টাকার উৎস কী? স্বচ্ছতার স্বার্থে তহবিলের যাবতীয় তথ্য সামনে আসা দরকার। কারণ, নির্দিষ্ট কয়েক জনের বাইরে কারও কোনও ভূমিকা না-থাকা সত্ত্বে্ও জবাবদিহির দায় আমাদের উপরেও এসে যাচ্ছে।’’

এরই পাশাপাশি কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষের সুকিয়া স্ট্রিটের বাড়ি ও সংলগ্ন দলীয় দফতরে হামলার অভিযোগ ঘিরেও তরজায় ইন্ধন যোগ হয়েছে। ঘটনায় জড়িত হিসেবে কয়েক জনের নাম করে কুণাল বলেছেন, ‘‘এদের সম্পর্কে খবর নিক পুলিশ। তার পরে হামলাকারীদের বাবা আর সুপারি-দাতাদের দিকে হাত বাড়ান! তদন্ত আমরাও করছি। আশা করি, পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে। অন্যথায় মনে হবে, পুলিশের মদতে এ সব হচ্ছে।’’ এরই পাশাপাশি, এনসিপিআই-এ চলে যাওয়া উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত এবং ‘গদ্দার’দের তিন জনের ষড়যন্ত্রের দিকে আঙুল তুলেছেন বেলেঘাটার বিধায়ক। সুদীপ বা ঋতব্রত অবশ্য এমন অভিযোগে আমল দিতে চাননি।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Lok Sabha Nationalist Citizens Party of India (NCPI)

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy