E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

এলাকায় তিন বছরে নিখোঁজ ৩৫ নাবালিকা! গতি পায়নি তদন্ত

রাজ্য পুলিশ সূত্রের খবর, বিভাগীয় তদন্তে নাবালিকার নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগের ক্ষেত্রে গাফিলতির বিষয়টি উঠে আসায় বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে।

শুভাশিস ঘটক

শেষ আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬ ০৭:২১

—প্রতীকী চিত্র।

শনিবার রাতে নাবালিকার নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ পেয়েও পুলিশি তদন্তে গাফিলতি ছিল বলে দাবি তার পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের। তবে, এই ঘটনাই শুধু নয়, গত তিন বছরে প্রায় ৩৫ জন নাবালিকার নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দায়ের হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ওই এলাকায়! অথচ, সেই সব ঘটনায় তদন্তের গতিপ্রকৃতির কোনও হদিস পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি রাজ্য পুলিশের কর্তাদের।

গত শনিবার নিখোঁজ হওয়া ওই নাবালিকার মৃতদেহ রবিবার সকালে উদ্ধার হওয়ার পরে স্থানীয় থানার একাধিক গাফিলতি প্রকাশ্যে আসতে থাকে। তদন্তের চুলচেরা বিচার শুরু হয়। আর তাতেই উঠে আসে ৩৫ জন নাবালিকার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তদন্তে গাফিলতির চিত্র। এলাকায় ওই থানা এবং মহিলা থানা থাকা সত্ত্বেও কী কারণে এতগুলি অভিযোগের তদন্ত গতি পায়নি, তা খতিয়ে দেখা হয়। গাফিলতির পরিসংখ্যান দেখে কার্যত তাজ্জব পুলিশকর্তারা। ওই নাবালিকারা উদ্ধার হয়েছে, নাকি এখনও নিখোঁজ, সেই তথ্যও নেই স্থানীয় থানা ও মহিলা থানার কাছে।

রাজ্য পুলিশ সূত্রের খবর, বিভাগীয় তদন্তে নাবালিকার নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগের ক্ষেত্রে গাফিলতির বিষয়টি উঠে আসায় বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। বুধবার থেকে অভিযোগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা ছাড়াও তদন্তকারীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন সিটের সদস্যেরা। রাজ্য পুলিশ সূত্রের দাবি, ওই থানায় শনিবার রাত ১১টা নাগাদ নাবালিকা নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করা হলে কর্তব্যরত ডিউটি অফিসার তা গ্রহণ করেন। প্রসঙ্গত, ওই রাতে ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইন-চার্জ নৈশ টহলদারিতে ছিলেন। থানায় ফিরলে ডিউটি অফিসার ওই অভিযোগের কথা তাঁকে জানান। কিন্তু তদন্তে না গিয়ে অভিযোগ ফাঁড়িতে পাঠাতে বলে নিজের ঘরে চলে যান তিনি। অভিযোগ, থানার তরফে অভিযোগটিকে কোনও গুরুত্বই দেওয়া হয়নি।

পুলিশকর্তারা জানাচ্ছেন, নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার সঙ্গে নারী পাচার চক্রের যোগ রয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। পুলিশকর্তাদের কথায়, সোমবার ওই থানায় গত কয়েক বছরে দায়ের হওয়া নাবালিকাদের নিখোঁজের অভিযোগের পরিসংখ্যান ও তথ্যের খোঁজ নেওয়া হলে তদন্তে গাফিলতির বিষয়টি সামনে আসে। এর পরেই এলাকার মহিলা থানার প্রাক্তন ওসি কাকলি ঘোষ কুণ্ডুর নেতৃত্বে সিট গঠন করা হয়। প্রসঙ্গত, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই অফিসার মহিলা থানায় ওসি পদে ছিলেন। সেই সময়ে পাচার হওয়া বহু নাবালিকাকে ভিন্‌ রাজ্য থেকে উদ্ধারে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল। সেই সময়ে ওই এলাকা ও আশপাশের এলাকায় নারীপাচার চক্র অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিল।

এ দিন সকাল থেকে মামলার তদন্তকারী অফিসারদের তলব করে তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে কথা বলেছে বিশেষ তদন্তকারীদের দল। পাশাপাশি, স্থানীয় থানা এলাকার বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে ছাত্রী এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গেও কথা বলেছে দলটি। পুলিশকর্তাদের কথায়, মূলত স্কুল ও গৃহশিক্ষকদের কাছে যাতায়াতের পথে নারী পাচার চক্রের পান্ডারা নজরে রাখে নাবালিকাদের। তাই অভিভাবক এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরও সচেতন করা হচ্ছে। পাশাপাশি, পাচার চক্রের পান্ডাদের পাতা নানা ধরনের ফাঁদ নিয়েও নাবালিকাদের সতর্ক করা হচ্ছে।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
police investigation WB Police Kolkata Police

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy