মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে তৃণমূলের বৈঠকে বিতণ্ডা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কুণাল ঘোষের। দু’জনের তর্কাতর্কি সামাল দিতে মাঠে নামতে হল মমতাকে। এমনকি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও এগিয়ে আসেন কুণাল এবং অভিষেকের তর্ক সামাল দিতে। সূত্রের খবর, তার পরে তিন জনের মাথায় হাত রেখে মমতা বলেন— ঠান্ডা ঠান্ডা কুল কুল, এখন শান্ত থাকতে হবে।
শনিবার সন্ধ্যার পর মমতার বাড়িতে বৈঠক বসেছিল। কুণাল, অভিষেক, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়েরা উপস্থিত ছিলেন ওই বৈঠকে। সেখানে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হতে হতে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ ওঠে। সুদীপ যেহেতু এখন শিবির বদল করেছেন, তাই উত্তর কলকাতার তৃণমূলের জেলা সভাপতি পদে নিয়োগ করা হয় কুণালকে। সেই সময় কুণাল আরও তড়িঘড়ি রদবদলের দাবি জানান। সূত্রের খবর, কুণালের এই দাবির প্রেক্ষিতে অভিষেক বলেন— সব দেখা যাবে, পরে হবে। পাল্টা কুণালও তখন বলেন— অভিষেক তুমি আর লেবু কচলে তেতো কোরো না।
এর পরে বৈঠক শেষ হলে আবার শুরু হয় দু’জনের বিতণ্ডা। কালীঘাটের বৈঠকে কুণাল-অভিষেক তর্কাতর্কির প্রসঙ্গে তৃণমূলের এক প্রবীণ নেতা বলেন, “কুণালকে দেখেই অভিষেক বলে ওঠেন, তুমি কি ঝগড়া করবে বলেই এসেছিলে? তখন কুণাল বলেন, ঝগড়া আমি করিনি। যেটা বলার বলেছি। এর পরেই হঠাৎ অভিষেক চলে যান সুমিত রায়ের প্রসঙ্গে। কুণালের উদ্দেশে অভিষেক বলেন, তুমি আমার আর সুমিতের বিরুদ্ধে স্টেটমেন্ট দিয়েছ। তখন কুণাল বলেন, আমি তোমার বিরুদ্ধে কোনও স্টেটমেন্ট দিইনি। তুমি সুমিতকে কেন নিজের কাঁধে নিচ্ছ!”
আরও পড়ুন:
ওই প্রবীণ নেতা আরও বলেন, “অভিষেকের কথা শুনে আমি স্তম্ভিত হয়ে যাচ্ছিলাম। কুণাল অভিষেককে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সংবাদমাধ্যম তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে গেলে তিনি সুমিত রায় সম্পর্কে তাঁর যা সমালোচনা, তা করলেও ভোর সাড়ে তিনটের সময়ে অভিষেকের বাড়িতে পুলিশি হানা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন।”
সূত্রের খবর, যখন এই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হচ্ছে অভিষেক এবং কুণালের সামনে এগিয়ে আসেন কল্যাণ। চেষ্টা করেন থামানোর। কিন্তু তাঁরা থামেননি। এর পরে পরিস্থিতি সামলাতে আসরে নামেন দলনেত্রী স্বয়ং। ওই সূত্রের দাবি, অভিষেক, কুণাল এবং কল্যাণের মাথায় হাত রেখে মমতা তাঁদের উদ্দেশে বলেন, ঠান্ডা ঠান্ডা কুল কুল। দলের এই সময়ে সবাইকে মাথা ঠান্ডা করে কাজ করতে হবে। সবাইকে এক হয়ে থাকতে হবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- বিধানসভার পরে লোকসভাতেও তৃণমূল হাতছাড়া হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
- লোকসভার ২৮ জন তৃণমূল সাংসদের মধ্যে ২০ জনই মমতাকে ছেড়ে যোগ দিলেন বিদ্রোহী শিবিরে।
- জোড়াফুলের এই ২০ সাংসদ এর পর যোগ দিতে চাইছেন কেন্দ্রে বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসকজোট এনডিএ-তে।
-
‘আসল’ তৃণমূলের দাবিদাওয়া! শুনানি বৃহস্পতিবার, নির্বাচন কমিশনের তলব পেয়ে দিল্লি গেলেন ঋতব্রতেরা
-
‘দলের নাম, প্রতীক, পদাধিকার ভাঁড়িয়ে কর্মীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা’, ঋতব্রতদের বিরুদ্ধে পুলিশে গেল মমতার তৃণমূল
-
‘প্রতীক চাইব কেন, আমরাই তো তৃণমূল’, কমিশনে নথি জমা দেওয়ার পরে বললেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত
-
তৃণমূলে তুঙ্গে দল দখলের যুদ্ধ! মমতা-পক্ষ কমিশনকে চিঠি দেওয়ার পরের দিনই সিইও দফতরে যাচ্ছেন ঋতব্রতেরা
-
তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট রহস্যের তদন্ত: লেনদেনের সব নথিপত্র ব্যাঙ্কের থেকে তলব পুলিশের! কোর্টেই ৪৪০ কোটির ভবিষ্যৎ