পুজোর মরসুম মিটলেই পুরোদস্তুর পুরভোটের দামামা বাজবে। ভোটার তালিকার প্রশ্নকে হাতিয়ার করে পুজোর পরেই ফের আন্দোলনের ময়দানে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস। আলাদা করে কর্মসূচির প্রস্তুতি নিলেও দুই শিবিরই ‘গণতন্ত্রপ্রিয়’ সব পক্ষকে শামিল হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। পৃথক পরিকল্পনা হলেও শেষ পর্যন্ত প্রতিবাদের পথ মিলে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না রাজনৈতিক শিবিরের একাংশ।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় বেনিয়মের অভিযোগে দিল্লি এখন প্রতিবাদে উত্তাল। অন্যান্য শহরেও বিরোধী প্রতিবাদের আঁচ ছড়িয়েছে। বিরোধীদের ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চ আগামী ১ নভেম্বর সারা দেশে বিক্ষোভ-প্রতিবাদের ডাক দিয়েছে। সূত্রের খবর, আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে বুধবার বামফ্রন্টের বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক সমীকরণের প্রেক্ষিতে আলোচনায় ঠিক হয়েছে, কলকাতায় ৩ থেকে ৫ নভেম্বরের মধ্যে কোনও এক দিন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরের সামনে ধর্না-অবস্থান হবে। লক্ষ্মীপুজো ও কালীপুজোর মাঝের সময়কে এই প্রতিবাদের জন্য কাজে লাগাতে চাইছেন বাম নেতৃত্ব। জ্ঞানেশের ইস্তফা ও ‘বৈধ’ ভোটারদের নাম ফেরানোর দাবিই মূলত সামনে রাখা হবে। এই প্রতিবাদে অংশগ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানানো হবে এই বিষয়ে সহমত এবং আন্দোলনরত অন্যান্য দল বা সংগঠনকেও।
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্যের মতে, ‘‘আমাদের রাজ্যে মৃত ও ভুয়ো ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি আমরা অনেক দিন ধরেই করে এসেছি। কিন্তু তার জন্য এসআইআর দরকার লাগে না, ভোটার তালিকার সাধারণ সংশোধনেই সেই কাজ করা যেত। মৃত ও স্থানান্তরিত (এএসএসডি) ব্যক্তি ছাড়াও অনেক বৈধ ভোটারের নাম এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ দেওয়া হয়েছে। যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতি বাতিল এবং বৈধ ভোটারদের অধিকার ফেরানোর দাবিই আমরা তুলছি।’’
পুজোর পরে প্রতিবাদের পথে যাচ্ছে কংগ্রেসও। মধ্য কলকাতা জেলা কংগ্রেস দফতরে এ দিন একটি যোগদান কর্মসূচির অবসরে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার জানিয়েছেন, কলকাতায় বহুসংখ্যক মানুষ যে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি, পুরভোটে তাঁদের অধিকার ফেরানোর দাবিতে পুজোর পরেই আন্দোলন হবে। সেই আন্দোলনে কোনও বিভাজন ছাড়া ‘গণতন্ত্রপ্রিয়’ সব মানুষকে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রদেশ সভাপতি। এসআইআর-এ বাদ পড়া ভোটারদের জন্য শিবির করে তালিকায় নাম তোলার আবেদন (ফর্ম-৬) জমা নিতে বিশেষ অভিযানের ঘোষণা করেছে কমিশন। প্রদেশ কংগ্রেসের তরফে সাধারণ সম্পাদক আশুতোষ চট্টোপাধ্যায় দিল্লির নির্বাচন সদন ও রাজ্যের সিইও-কে চিঠি দিয়ে দাবি জানিয়েছেন, ফর্ম-৬ জমা পড়ার যথাক্রমে রাজ্যভিত্তিক এবং রাজ্যের মধ্যে জেলা ও বিধানসভা কেন্দ্রভিত্তিক প্রতিদিনের তথ্য প্রকাশ করা হোক।
তবে এরই মধ্যে রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্নে ‘সতর্ক’ হয়ে পা ফেলতে চাইছে সিপিএম। কমিশন সংক্রান্ত প্রতিবাদে এবং আরও কিছু প্রশ্নে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা এখন নিজের উদ্যোগেই বামেদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন, যোগাযোগ করছেন। এমতাবস্থায় দলের সর্বস্তরের নেতারা যাতে মমতা-প্রশ্নে একই সুরে কথা বলেন, সেই বিষয়ে সতর্ক থাকতে চাইছেন সিপিএমের রাজ্য নেতৃত্ব।