পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের ১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত এলাকায় ভোটার তালিকার বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধনের (এসএসআর) দিনক্ষণ ইতিমধ্যেই জানিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। কিন্তু ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) পরে এই রাজ্যে ট্রাইবুনালে বিচারাধীন থাকা ব্যক্তিরা সেখানে সুযোগ পাবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এই আবহে ভোটার তালিকা নিয়ে পরিস্থিতি যখন ক্রমশ জটিল হচ্ছে, তখন পুজোর পরে ৫ নভেম্বর সব বামপন্থী দল একসঙ্গে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর অভিযানের ডাক দিল।
সিইও দফতর অভিযানে বামফ্রন্টের শরিক দলগুলির সঙ্গে এসইউসি, সিপিআই (এম-এল) লিবারেশন-সহ অন্য বাম দলগুলিও যোগ দেবে। বাম শরিক দলগুলি এবং এসইউসি, লিবারেশন নেতৃত্বকে পাশে নিয়ে শুক্রবার আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেছেন, “আগামী ৫ নভেম্বর সিইও দফতর অভিযান হবে। ভোটের অধিকার ফেরানো আমাদের মূল দাবি। কমিশন নানা অছিলায় বিভিন্ন অংশের মানুষকে ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। সব বাম দলগুলি একযোগে এই অভিযান করবে।”
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা এবং ‘বৈধ’ ভোটারদের নাম ফেরানোর দাবিতে দিল্লি-সহ দেশের নানা প্রান্তে যে আন্দোলন চলছে, বাম-অভিযানে সেই দাবিই মূলত সামনে রাখা হবে। সূত্রের খবর, প্রতিবাদে যোগ দেওয়ার জন্য এই বিষয়ে সহমত এবং আন্দোলনরত অন্য দল বা সংগঠনকেও আহ্বান জানানো হতে পারে। প্রসঙ্গত, পুজোর পরেই পুরভোটের যে প্রক্রিয়া শুরু হবে, তাতে নিষ্পত্তি না-হওয়া সব ভোটারই যাতে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান, সেই দাবিও তুলছে সিপিএম-সহ বিভিন্ন বাম দলগুলি।
এরই মধ্যে জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানানোর পাশাপাশি দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছে সিপিএমের গণসংগঠন গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি। সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক মোনালিসা সিন্হা, রাজ্য সভাপতি জাহানারা খান বলেছেন, ‘‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রতিবাদের অধিকার সবার আছে। দিল্লি পুলিশ ছাত্রী এবং মহিলাদের সঙ্গে যে ন্যক্কারজনক ব্যবহার করেছে, তার তীব্র নিন্দা করছি।’’