নিট-কাণ্ডকে সামনে রেখে কলকাতায় ৮টি বাম ছাত্র সংগঠনের ডাকে হওয়া ধর্মতলার মিছিলে অশান্তির প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই ৭০ জন ‘অ-ছাত্র’কে চিহ্নিত করে গুন্ডা দমন আইন প্রয়োগের কথা বলেছেন। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক প্রতিবাদ-কর্মসূচি সংগঠনের পথ নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে বিরোধী শিবিরে। কারণ, তাদের আশঙ্কা, আন্দোলনে কোনও অশান্তি হলে আয়োজকদের বিরুদ্ধেও বিজেপি সরকারের আমলে আনা গুন্ডা দমন আইন ও জন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সংশোধিত আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার ‘সুযোগ’ আছে। গুন্ডা দমন আইনকে নিশানা করার পাশাপাশি ভিডিয়ো (সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার) দেখিয়ে শুক্রবার মিছিলে অশান্তির জন্য শাসক পক্ষকেও দায়ী করেছেন ওই মিছিলের আয়োজক বাম-ছাত্রেরা।
মিছিলের আয়োজক এসএফআই, আইসা, ডিএসও, ছাত্র ব্লক, এআইএসএফ, ডিওয়াইএসএ, পিডিএসএফ, পিএসইউ-এর নেতৃত্ব শনিবার কিছু ভিডিয়ো ক্লিপ দেখিয়ে সরব হয়েছেন। ভিডিয়ো দেখিয়েই এসএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে’র অভিযোগ, “গুন্ডা ঢুকিয়ে মিছিল বানচাল ও কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা হয়েছিল। শাসক দল, তাদের মদতপুষ্ট কিছু বিধায়ক, যাঁরা কোন দলে থাকবেন ঠিক করতে পারছেন না, তাঁদের বাহিনী এবং পুলিশ-প্রশাসনের লোকজন মিছিলে ঢোকার চেষ্টা করেছেন।” তাঁর সংযোজন, “মুখ্যমন্ত্রী ‘কুখ্যাত’, ‘গুন্ডা’ ইত্যাদি বলেছেন। মৌলালি মোড়ে দমকলের গাড়ির মাথায় চড়ে মিছিলে ইট ছোড়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলুন, এঁরা কোন ‘শুক্রবারি’? মৌলালি যুবকেন্দ্রের বারান্দা থেকে ইট ছোড়া হয়েছে। কাল বিজেপির কর্মিসভা চলছিল সেখানে।” ডিএসও-র রাজ্য সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায়েরও অভিযোগ, “মুখ্যমন্ত্রী গুন্ডা দমন আইনের কথা বলেছেন। এটা আসলে গুন্ডা নয়, গণ-আন্দোলনকে দমন করার চেষ্টা।” তবে এর মধ্যেই ছাত্র-আন্দোলনে যে বাম-সংহতি দেখা গিয়েছে, তা এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার প্রেক্ষিতে ২৭ ও ২৮ জুলাই রাজ্য জুড়ে ‘বিজয় মিছিলে’র ডাক দিয়েছে বাম ছাত্র সংগঠনগুলি। মিছিল থেকে এনটিএ বাতিল, ‘মিথ্যা মামলা’য় ধৃত গণ-আন্দোলনের কর্মীদের মুক্তির দাবি তোলা হবে।
গুন্ডা দমন আইনের প্রয়োগ আসলে বিরোধী-স্বর দমনের চেষ্টা বলে সরব হয়েছে সিপিএম-ও। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ধর্যণ-কাণ্ডের জেরে গণপিটুনির ঘটনায় ধৃত সিপিএম নেতা লাহেক আলির মুক্তির দাবিতে মিছিল থেকে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেছেন, “গুন্ডা দমন আইনের নামে প্রতিবাদীদের দমন করতে চাইছে বিজেপি সরকার।” দলের নেতা সুজন চক্রবর্তীও বলেছেন, ‘‘শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে ‘এজেন্ট প্রোভোকেটর’ হিসেবে ঢুকে কেউ কেউ ছাত্র আন্দোলনের গরিমাকে নষ্ট করতে চেয়ছে। সাংবাদিকদের উপরেও হামলা হয়েছে, ষেটা তীব্র নিন্দাজনক। মুখ্যমন্ত্রী এর সুযোগ নিচ্ছেন।’’
বাম-কংগ্রেসকে ফের পাল্টা নিশানা করেছে বিজেপি-আরএসএস। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, “ছাত্রদের ঢাল বানিয়ে দুষ্কৃতীদের মাধ্যমে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছে বাম সংগঠনগুলো। আন্দোলনের নামে দেশের সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট করা কংগ্রেস ও বাম সংগঠনগুলোর প্রকৃত উদ্দেশ্য।” রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) ছাত্র সংগঠন এবিভিপি-র রাজ্য সম্পাদক নীলকণ্ঠ ভট্টাচার্যও বলেছেন, “ছাত্র-সমাজের ন্যায্য দাবিকে সামনে রেখে আন্দোলন শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও গঠনমূলক হওয়া উচিত। কিন্তু কিছু বামপন্থী সংগঠন ছাত্রদের আবেগকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে সমাজে বিভাজন তৈরি ও দেশ-বিরোধী মনোভাবকে উৎসাহ দেওয়ার যে চেষ্টা করছে, তা উদ্বেগজনক।”