বই কাড়তে বুলডোজ়ার নামতে দেখেছে এ বার পুজোর কলকাতা! বইয়ের জন্য এ বার মানুষ নামবেন শহরে!
উৎসবের মরসুমে বইয়ের বিপণি এবং বইয়ের উপরে যে লাগাতার আক্রমণ চলেছে, তার বিরুদ্ধে নাগরিক প্রতিবাদের ডাক দিলেন বইপ্রেমীরা। শহরের বইপাড়া, কলেজ স্ট্রিট ও কলেজ স্কোয়ার এলাকায় আগামী ২৯ অক্টোবর হতে চলেছে পদযাত্রা। পুজোয় হামলা হয়েছিল বামপন্থীদের বইয়ের বিপণির উপরে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অভিযুক্ত বিজেপি, কোথাও অভিযোগের তির পুলিশ-প্রশাসনের দিকে। বিজেপি অবশ্য আনুষ্ঠানিক ভাবে বলেছে, এমন আক্রমণে দলের ‘অনুমোদন’ নেই। বই হাতে নিয়ে প্রতিবাদের আহ্বানে শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যিক, লেখক, বিশিষ্ট জন-সহ সকলেই শামিল হচ্ছেন। তাঁদের তরফে বলা হচ্ছে, ‘আমাদের আবেদন, বইকে ভালবাসা মানুষ হিসাবে এই কর্মসূচিতে সকলকে সঙ্গে নিয়ে যোগ দিন। লেখক-শিল্পী, ছাত্র-শিক্ষক-বইপ্রেমী সহ সবাই আসুন। সঙ্গে নিয়ে আসুন আপনার পছন্দের যে কোনও একটি বই। বই-ই হয়ে উঠুক বইয়ের জন্যে আমাদের প্রতিবাদের নিশান’
কলেজ স্ট্রিটে বিদ্যাসাগর মূর্তিতে আগামী ২৯ তারিখ জমায়েতে যোগ দেওয়ার ডাক দিয়ে শনিবার সামনে এসেছে পোস্টার। যেখানে লেখা হয়েছে ‘বইয়ের জন্য হাঁটুন’। সূত্রের খবর, ওই মিছিলে কোনও নির্দিষ্ট মতের ব্যানার-ফেস্টুন রাখা হচ্ছে না। থাকছে না রাজনৈতিক পতাকাও। তবে বামেদের বইয়ের বিপণিতে হামলার পরে সংহতি জানাতে এগিয়ে এসেছিলেন মমতা-তৃণমূল এবং প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব। বই হাতে প্রতিবাদের মিছিলেও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বেরা নাগরিক হিসেবেই অংশগ্রহণ করতে পারেন, এমন বলা হচ্ছে উদ্যোক্তাদের তরফে। এখনও পর্যন্ত যা খবর, এই বই-প্রতিবাদে শামিল হচ্ছেন চন্দন সেন, সব্যসাচী চক্রবর্তী, কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়, সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়, পরান বন্দ্যোপাধ্যায়, বিভাস চক্রবর্তী, পবিত্র সরকার, পরঞ্জয় গুহঠাকুরতা, ভগীরথ মিশ্র, শোভনলাল দত্তগুপ্ত, যশোধরা রায়চৌধুরী, জহর সরকার, স্বপ্নময় চক্রবর্তী, রতন খাসনবিশ, কুমার রানা, বিজয়লক্ষ্মী বর্মণ, ঊর্মিমালা বসু-সহ অজস্র পরিচিত মুখ। যাঁরা যাঁরা আগ্রহী হবেন, তাঁদের সকলকে নিয়ে প্রতিবাদের আহ্বান আনুষ্ঠানিক ভাবে শীঘ্রই প্রকাশ করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
প্রতিবাদ কর্মসূচির পোস্টার। ছবি: সংগৃহীত।
প্রাথমিক ভাবে উদ্যোক্তাদের তরফে বলা হয়েছে, ‘আমরা গভীর বেদনা ও উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করলাম, সম্প্রতি প্রায় সারা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বইয়ের উপরে নেমে এল ভয়ানক আক্রমণ। পশ্চিমবঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গের জনজীবনকে এমন মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি দাঁড়াতে হয়নি আগে। দেশ-দুনিয়ায় বাংলার মর্যাদা ক্রমশ হেঁট হয়ে যাচ্ছে’। আরও বলা হয়েছে, ‘আমরা দেখলাম, বইকে ভালবেসে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে নানা বয়সের মানুষের প্রতিরোধ। পিছু হটতে বাধ্য হল স্টল ভাঙতে-আসা পুলিশ বাহিনী, বুলডোজ়ার। সারা রাজ্যেই দেখা গেল বইয়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের লড়াই। তার বিরুদ্ধে বইপ্রেমী অজস্র মানুষের প্রতিরোধ’।