নির্যাতিতা বালিকার স্মৃতিতে তার স্কুলে একটি গ্রন্থাগার তৈরির অনুরোধ জানাল পরিবার। গত শনিবার বালিকার বাড়িতে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তখনই তাঁর কাছে এই দাবি জানান বালিকার বাবা-মা। মুখ্যমন্ত্রী সেই আর্জি পূরণ করবেন বলে প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।
বুধবার এই প্রসঙ্গে বালিকার বাবা বলেন, “এলাকায় একটি আউটপোস্ট ও সিসি ক্যামেরা লাগানোর দাবি জানিয়েছিলাম। উনি সেটা ইতিমধ্যেই করে দিয়েছেন। মেয়ে যে স্কুলে পড়ত, সেখানে একটি লাইব্রেরি তৈরি করে দেওয়ার কথা বলেছি মুখ্যমন্ত্রীকে। মেয়ে তো নেই, কিন্তু ওর মতো বাকি ছেলে-মেয়েরা যাতে পড়াশোনার সুযোগটা পায়, সেই কারণেই আবেদন করি। উনি তা-ও করে দেবেন বলেছেন। পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নে আরও কাজের আশ্বাস দিয়েছেন। সঠিক বিচার দিতেও প্রশাসন কাজ করছে।”নির্যাতিতার পরিবার কী সরকারি সাহায্য পেল, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছিল গত কয়েক দিন। এলাকায় এসে গণপিটুনিতে মৃত যুবকের পরিবারকে আর্থিক-সহ নানা সাহায্যের কথা ঘোষণা করে যান মুখ্যমন্ত্রী। তবে নির্যাতিতার পরিবারকে কী সাহায্য করা হল তা প্রকাশ্যে বলেননি তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সাহায্য করা হয়েছে। কী সাহায্য সেটা পরিবারটি চাইলে পরে জানাবে। এ দিন বালিকার বাবা জানান, প্রশাসন যথাসাধ্য সাহায্য করেছে। আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি তাঁকে কারা দফতরে চাকরিও দেওয়া হয়েছে। মানসিক অস্থিরতা কাটিয়ে শীঘ্রই তিনি সেই চাকরিতে যোগ দেবেন বলেও জানান।
অন্য দিকে, গণপিটুনির অভিযোগে আরও এক জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই নিয়ে এই ঘটনায় ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮। মঙ্গলবার রাতে নির্যাতিতা বালিকার গ্রাম থেকেই সাকিম লস্কর ওরফে কেলে নামে ওই যুবককে ধরা হয়। সে গণপিটুনিতে যুক্ত ছিল বলেই পুলিশের দাবি। বুধবার তাকে আদালতে তোলা হলে বিচারক পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
গত ৫ জুলাই সকালে বালিকার দেহ উদ্ধারের পরে বিক্ষোভ চলাকালীন ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল নামে এক যুবককে দোষী সন্দেহে পিটিয়ে মারে বিক্ষোভকারীরা। পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এলাকায় এসে জানিয়ে দেন, ইন্দ্রজিৎ নির্দোষ। তাঁর হত্যা মামলায় বালিকা ধর্ষণ-খুনের সঙ্গে সমান গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত হবে বলে জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গণপিটুনি, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, পুলিশকে মারধরের অভিযোগে দফায় দফায় অভিযান চালিয়ে ৪০ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়। তার মধ্যে সাত জনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে গণপিটুনিতে খুনের মামলা রুজু হয়েছে।
এ দিন ধৃত সাকিমের বিরুদ্ধেও একই মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এই আট জনের পাশাপাশি, গত রবিবার রাতে ধৃত সিপিএম নেতা লাহেক আলির বিরুদ্ধেও গণপিটুনিতে খুনের মামলা রুজু করেছে পুলিশ।