মামলা নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে আপসের প্রস্তাব পাঠাতে চেয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার এই দাবি করেছেন সদ্যবিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। অভিষেকের বিদেশযাত্রা নিয়ে চাপানউতোরের মধ্যে মদনের এই দাবি ঘিরে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
নির্বাচনের পর থেকেই চিকিৎসার কারণে আমেরিকা যেতে চেয়ে বারবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু নানা আইনি প্রশ্নের মুখে এ দিনই সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। এই প্রেক্ষাপটে মদনের এই দাবি বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক সময়ের বিশ্বস্ত সহকর্মী মদন এ দিন বলেন, ‘‘ভোটের পরে কিছুদিন রাজনীতি থেকে সরে থাকার কথা হয়েছিল অভিষেকের সঙ্গে। তখন ও ( অভিষেক) বলেছিল, তাহলে সরকারকে বলো, আমার জমে থাকা মামলায় সরকারি আইনজীবী যেন বিরোধিতা না করে। আমি বিদেশে চিকিৎসা করাতে যাব।’’ শুধু তা-ই নয়, মদনের দাবি, এ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গেও কথা বলতে বলেছিলেন অভিষেক।
অভিষেকের বিদেশ-যাত্রা নিয়ে বারবারই নানা সন্দেহ প্রকাশ করেছে বিজেপি। রাজ্যের শাসক নেতাদের একাংশের আশঙ্কা, নানা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সে সব তদন্ত এড়াতে অভিষেক পাকাপাকি ভাবে বিদেশে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এই অবস্থায় অভিষেক সম্পর্কে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করে মদন জানিয়েছেন, অভিষেকের সঙ্গে এই আলোচনার সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দলের আর এক বিধায়ক কুণাল ঘোষ। অভিষেকের ওই ‘প্রস্তাব’ সম্পর্কে কুণাল অবশ্য সরাসরি কোনও উত্তর দেননি। তিনি বলেন, ‘‘সঙ্কটের সময় দল নিয়ে আমরা নানা চেষ্টা করেছি। অনেকের সঙ্গে অনেক আলোচনা করেছি। মদনদা তখন আমাদের সঙ্গেই ছিলেন। কিন্তু এখন সে সব কথা বাইরে আলোচনা করা উচিত হবে না।’’