দুই পুত্র হাজিরা দিয়েছিলেন আগেই। এ বার ইডি দফতরে গেলেন মদন মিত্রের স্ত্রী অর্চনা মিত্র। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ সিজিও কমপ্লেক্সের ইডি দফতরে যান তিনি। সঙ্গে ছিলেন কনিষ্ঠ পুত্র শুভরূপ। সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের কোনও উত্তর দিতে চাননি চিনি। হাতজোড় করে লিফ্টে উঠে যান।
পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মিত্র পরিবারের চার সদস্যকে আলাদা আলাদা দিনে তলব করেছিল ইডি। বুধবার ইডি দফতরে হাজিরা দেন মদনের কনিষ্ঠ পুত্র শুভরূপ। প্রায় ৯ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাঁকে। বৃহস্পতিবার হাজিরা দেন জ্যেষ্ঠপুত্র স্বরূপ। আগামী বুধবার (২৯ জুলাই) এই মামলার তদন্তেই তলব করা হয়েছে কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদনকে।
ইডির দাবি, নগদ অর্থ কিংবা সোনাদানার বিনিময়ে টিটাগড় পুরসভায় চাকরি পেয়েছিলেন অন্তত ১২৫ জন। এই সূত্রেই মদনের নাম উঠে আসে। গত ১৩ জুন তাঁর একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালায় ইডি। মদনকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। তার পরেই তাঁর দুই পুত্র এবং স্ত্রীকে তলব করে ইডি। ইডি সূত্রে খবর, পুরসভায় নিয়োগের বিনিময়ে কোনও অবৈধ লেনদেন হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই কারণেই মদনের দুই পুত্র এবং স্ত্রীকে ব্যাঙ্কের নথি নিয়ে হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল।
শুধু ইডিই নয়, গত বছরের অক্টোবরে পুরনিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় মদনের বাড়িতে তল্লাশি চালায় সিবিআই। সেই সময় তাঁর বাড়িতে পাঁচ ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালানো হয়। গত সপ্তাহে মদনের স্ত্রী এবং দুই পুত্রকে তলব করার পরেই তৃণমূলের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরে যোগ দেন মদন। তার পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে আঙুল তোলেন তিনি।
পুরনিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে ইতিমধ্যেই প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেছে ইডি। সুজিত এবং তাঁর পুত্র সমুদ্র বসুর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিটও জমা করেছে তদন্তকারী সংস্থা।