Advertisement
E-Paper

নন্দীগ্রামের পর রেজিনগরও! মনোনয়ন তুলে নিচ্ছেন মমতা তৃণমূলের প্রার্থী, উপনির্বাচন ঘিরে নাটক আজও অব্যাহত

পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের পর মুর্শিদাবাদের রেজিনগর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন। তিনি উপনির্বাচনে লড়বেন না।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:০৫
(বাঁ দিকে) রেজিনগরের মমতা তৃণমূল প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। ডান দিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) রেজিনগরের মমতা তৃণমূল প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। ডান দিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের পর মুর্শিদাবাদের রেজিনগর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের তৃণমূল প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন। তিনি উপনির্বাচনে লড়বেন না বলে জানিয়েছেন। শনিবারই উপনির্বাচনের মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। নতুন করে আর মনোনয়ন জমা দেওয়ার সুযোগও নেই। ফলে রবিউল সরে দাঁড়ানোয় রেজিনগর কেন্দ্রের ভোটও হবে মমতা তৃণমূলকে ছাড়া।

কেন মনোনয়ন প্রত্যাহার? রবিউল বলেন, ‘‘দলের নতুন প্রতীক হয়েছে। কর্মীদের মাঠে নামানো যাচ্ছে না। চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। অনেককে গ্রেফতারও করা হয়েছে। তা হলে আমরা ভোটে লড়ব কী করে? সেই কারণেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’’ মমতার সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রবিউল। তাঁর দাবি, দলনেত্রীকে জানিয়েই মনোনয়ন প্রত্যাহার করছেন প্রার্থী। রবিউল আরও জানান, নতুন প্রতীক এত কম সময়ের মধ্যে কর্মী এবং সমর্থকদের চেনাতেও তাঁর সমস্যা হবে। মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ তা-ও। শনিবার সকালে মনোনয়ন প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্দেশে বহরমপুরে রওনা দেন রবিউল। এর ফলে উপনির্বাচনে রাজ্যের দুই কেন্দ্রেই মমতার কোনও প্রতিনিধি রইলেন না।

এ প্রসঙ্গে কালীঘাটকে কটাক্ষ করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “টেন পাশ নেতা বলেছিলেন, নন্দীগ্রামে অঘটন ঘটাবেন তাঁদের প্রার্থী। গতকাল নন্দীগ্রামে আর শনিবার রেজিনগরের প্রার্থী অঘটন ঘটালেন। আসলে নেত্রী গোল দিতে ময়দানে নেমেছিলেন, কিন্তু তাঁর সব শট নিজেদের গোলে ঢুকে সেমসাইড হয়ে যাচ্ছে!” মমতা শিবিরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় রেজিনগরের প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার নিয়ে বলেন, ‘‘সমস্যা তো কিছু আছেই। কথা বলতে হবে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া তৃণমূলের কোনও অস্তিত্ব নেই।’’

জোড়াফুল ফ্রিজ় করার পর শুক্রবার নির্বাচন কমিশন পৃথক নাম এবং প্রতীক দেয় মমতা ও ঋতব্রত শিবিরকে। কালীঘাটপন্থী শিবিরের নাম হয় মমতা তৃণমূল কংগ্রেস এবং ঋতব্রত শিবিরের নাম হয় গণতান্ত্রিত তৃণমূল কংগ্রেস। মমতার দল ‘ফুটবলার’ প্রতীক পেয়েছে। ঋতব্রতেরা পেয়েছেন খাম চিহ্ন। এর পরেই শুরু হয় নাটক। নন্দীগ্রামে মমতা তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। তার আগের দিনই তিনি গোপনে দেখা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে। মমতা এর পর সাংবাদিক বৈঠকে জানান, তিনি নন্দীগ্রামে কংগ্রেসকে সমর্থন করবেন। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ওই কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ১৯ বছরের পুরনো খুনের মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এ বার উপনির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন রেজিনগরের প্রার্থীও।

রবিউল যে সরে দাঁড়াতে পারেন, তা শুক্রবার সঞ্চিতার পদক্ষেপের পরেই আন্দাজ করা গিয়েছিল। প্রার্থীদের উপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছে মমতা শিবির। নন্দীগ্রামে যে সংগঠন দুর্বল, মেনে নেন কালীঘাটপন্থী বিধায়ক কুণাল ঘোষও। তবে অবিলম্বে কংগ্রেস প্রার্থী মিলনের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মমতা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।

Rejinagar Mamata Banerjee TMC

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy