E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

ভোট নিয়ে শরিকদের ‘শত্রুর শত্রু’ তত্ত্ব মনে করিয়ে দিলেন মমতা

উৎসব সংখ্যায় দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তনের মূল্যায়নে বিজেপিকে বিঁধেছেন।

রবিশঙ্কর দত্ত

শেষ আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৩৪
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে ‘শত্রুতা’র কারণে অ-বিজেপি দলগুলি এ রাজ্যের ভোটে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে ‘বন্ধু’ মনে করেছে। ভোট-পরবর্তী সময়ে ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চে ফের একজোট হলেও এই অনুযোগ সামনে আনলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় মুখপত্রের উৎসব সংখ্যায় এই প্রসঙ্গে তৃণমূল নেত্রী লিখেছেন, রাজনৈতিক কারণে ওই দলগুলি ‘মুখে কুলুপ’ এঁটেছিল।

নির্বাচনী লড়াইয়ে এ রাজ্যে সিপিএম তথা বামফ্রন্ট তো বটেই, কংগ্রেসেরও মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিলেন মমতা। নির্বাচনের পরে অবশ্য বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তিনিই প্রথম এই দুই শিবিরের কাছাকাছি আসার প্রয়োজন মেনে নিয়েছেন। সেই মতোই সম্প্রতি কংগ্রেসের নেতৃত্বে ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চের ‘ভোট চুরি’-বিরোধী আন্দোলনে শামিল হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। তবে ভোটের আগে এই বিষয়ে রাজ্যে তাদের ভূমিকা ‘নেতিবাচক’ ছিল বলেও মনে করছেন তিনি। দলীয় মুখপত্রের উৎসব সংখ্যায় তা জানিয়েও দিয়েছেন তিনি। মমতা লিখেছেন, ‘গায়ের জোরে, কেন্দ্রীয় ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার তোয়াক্কা না-করে ভয়ঙ্কর সব সিদ্ধান্ত নিল কমিশন। আমরা বারবার প্রতিবাদ করছিলাম। কিন্তু অনেকেই সে দিন তাদের রাজনৈতিক স্বার্থে ‘এনিমিজ এনিমি ইজ আওয়ার ফ্রেন্ড’— এই তত্ত্বে কমিশন ও বিজেপির ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মুখে কুলুপ এঁটে রইলেন’। মমতা নামোল্লেখ না-করলেও এটা স্পষ্ট যে, তাঁর ইঙ্গিত কংগ্রেস ও বামেদের দিকেই।

উৎসব সংখ্যায় দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তনের মূল্যায়নে বিজেপিকে বিঁধেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘বাংলায় হাজার বছরের ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতি, বাউলগান, যাত্রাপালা, রবীন্দ্রনাথ, নজরুলের মানবতাবাদী আদর্শ এবং সর্বর্ধর্ম সমন্বয়ের উদার ভিত্তির উপরে। অথচ বর্তমানে এই বহুমাত্রিক ও মুক্ত সাংস্কৃতিক ভিতটিকে বিনষ্ট করার নানাবিধ সামাজিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ বিদ্যামান।’

পাশাপাশিই, উৎসবর শুরুর মুহূর্তেই উপহার নিয়ে এক ব্যতিক্রমী টানাপড়েন শুরু হয়ে গিয়েছে মমতা-তৃণমূলের অন্দরে। ষষ্ঠীর সকালে দলের একাধিক নেতা সমাজমাধ্যমে ‘দিদির দেওয়া উপহার’-এর ছবি পোস্ট করতেই অসন্তোষ, অভিমান আছড়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমেই। মমতার দেওয়া উপহার নিয়ে একাংশের উচ্ছ্বাস দেখে দলেরই অন্য অংশ লিখেছে, বহু নেতা ও কর্মী কষ্টে আছেন। অথচ দলেরই একাংশে উৎসবের মেজাজ! অনেকেই লিখেছেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকে বহু কর্মী ঘরছাড়া, পুলিশ বা জেল হাজতে। এই অবস্থায় এমন উপহার নিয়ে প্রকাশ্যে উচ্ছ্বাস দেখানো কি উচিত? একই ভাবে চর্চায় এসেছে অভিষেকের দেওয়া উপহারও।

এতে অবশ্য প্রলেপ লাগানোর চেষ্টায় দলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ সমাজমাধ্যমে বলেছেন, ‘আমাদের অনেক রাজনৈতিক সহযোদ্ধা কঠিন পরিস্থিতিতে আছেন। ঘরছাড়া, কাজহারা, মিথ্যা মামলায় বন্দি। নিহত ও আহতদের পরিবারের আরও জটিলতা’। এই অংশের উদ্দেশে তিনি লিখেছেন,‘সকলকে সাহায্য করার ক্ষমতা নেই। কিন্তু তাঁদের যন্ত্রণায় সহমর্মিতা ও সমর্থন থাকল’। অনেকেই মনে করছেন, কুণালের এই বার্তা কালীঘাটের জন্যও!

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
INDIA Alliance Mamata Banerjee

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy