পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাতে শিশুর জন্য এক মহিলাকে স্টোভ জ্বালিয়ে দুধ গরম করতে দেখে অগ্নিশর্মা হয়েছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, যা নিয়ে তরজা অব্যাহত। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার জানালেন, দরকারে তাঁর কোনও সহকর্মীর বাড়িতে পরিবারটির থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পাল্টা বলেছেন, মমতার উপরে আস্থা রাখছেন না তাঁরই সহকর্মীরা। এই আবহে ফুটপাত যে মানুষের বসবাসের জায়গা নয়, তা আবার স্মরণ করিয়ে দিয়েও মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা মেনে নিয়েছেন, ওই মহিলাকে তাঁর ‘একটু নরম’ ভাবে বলা দরকার ছিল।
পার্ক স্ট্রিটের ওই ঘটনা নিয়ে সমাজমাধ্যমে সম্প্রচার করে মমতা এ দিন বলেছেন, “মা দুধ ফোটাচ্ছেন, বাচ্চার জন্য। তাঁর থাকার জায়গা নেই, অসহায়। অসহায় মানুষের আগে থাকার ব্যবস্থা করুন। আমরা অনেক রাত্রি-নিবাস করেছিলাম। দুধ ফেলে দিতে খারাপ লাগে না? মনে রাখবেন, মায়ের অভিশাপ অনেক বড়। পরিবারটি চাইলে, আমি ওঁদের দায়িত্ব নিতে রাজি। আমাদের কোনও সহকর্মীর বাড়িতে ওঁদের থাকা, বাচ্চাদের পড়াশোনা, খাবারের ব্যবস্থা করব আমি।” এই প্রেক্ষিতেই নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু পাল্টা বলেছেন, “উনি (মমতা) ওঁর বাড়িতে রাখছেন না কেন? নিয়ে যান। তবে ওই মহিলা রাজি হলে তো!” এই সূত্রেই কাঁচরাপাড়া পুরসভার পদত্যাগ করা তৃণমূলের পুর-প্রতিনিধি জেনি শর্মা কেওটের স্বামীর পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর পরেও জেনি যে মমতার সঙ্গে দেখা করেননি, সেই প্রসঙ্গ তুলে খোঁচা দিয়েছেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “হালিশহরে তৃণমূলের পুর-প্রতিনিধিই ওঁর (মমতা) সঙ্গে দেখা করতে রাজি হননি। আমার সঙ্গে দেখা করে বিচার চাইলেন। মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিলের আওতায় ১০ লক্ষ টাকার চেক নিলেন আমার হাত থেকে। চাকরির ফর্ম, বায়োডেটা পাঠালেন আমাকে। ওঁর লোকজনই ওঁর উপরে আস্থা রাখছেন না।”
পার্ক স্ট্রিট-কাণ্ড নিয়ে সমাজমাধ্যমে নেট-জনতার একাংশ এবং বিরোধীরা স্বর চড়ানোর পরে এ দিন অবশ্য নিজের আচরণের প্রশ্নে ফের ব্যাখ্যা দিয়েছেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা। বলেছেন, “অনাবশ্যক সমালোচনা করবেন না। হ্যাঁ, আমি হয়তো চিৎকার করে বলেছি। আমার সেটা একটু নরম ভাবে বা বুঝিয়ে বলা দরকার ছিল।” পাশাপাশি, ফের বলেছেন, “ফুটপাত হাঁটাচলার জন্য, বসবাসের জন্য নয়।” শিল্প-বিনিয়োগের প্রশ্নে শহরের রাস্তাঘাটকেও উপযোগী করে তোলার কথা বলেছেন মন্ত্রী।
তবে এর পরেও সরব রয়েছে বিরোধীরা। ফুটপাতবাসী ওই মহিলার সঙ্গে দেখা করে পরিবারটির পাশে থাকার কথা বলেছেন সিপিএমের গণসংগঠন গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির সর্বভারতীয় সম্পাদক কনীনিকা ঘোষ এবং রাজ্য সম্পাদক মোনালিসা সিন্হা। অগ্নিমিত্রার উদ্দেশে কনীনিকা বলেছেন, “মানুষ হয়ে মানুষের প্রতি সহানুভূতি থাকবে না? এক জন মা’কে তিরস্কার করার বদলে আর্থিক বৈষম্য কমানোর দিকে নজর দিন।”