ক্ষমতার হাতবদল হয়ে গিয়েছে পাঁচ মাস আগে। কিন্তু ২০২৬ সালের সেই নির্বাচনের থেকেও ‘কঠিন’ এক পরীক্ষার প্রস্তুতি সারছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাতেই বিজয়া দশমীর প্রীতি বিনিময়ের বদলে উচ্ছ্বাসহীন ব্যতিক্রমী হয়ে রইল তাঁর উঠোন। মিষ্টিমুখহীন বিকেলে দল আর প্রতীক রক্ষার আইনি রসদ একত্র করতে ব্যস্ত রইলেন তিনি ও তাঁর সতীর্থেরা।
কালীঘাটে তৃণমূল নেত্রীর বাড়ির মাথায় এখনও তিন দণ্ডে উড়ছে জোড়াফুল প্রতীক আঁকা পতাকা। তার লাগোয়া অফিস এখনও ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’-এরই। কিন্তু নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ভাঙনের ফলে এই দুই নাম ও নিশান নিয়ে শুরু হওয়া টানাপড়েন এখন কার্যত চূড়ান্ত পর্যায়ে। আগামী ৩০ অক্টোবর এই দুইয়ের দুই দাবিদারকে ডেকেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। মর্যাদা তো বটেই, এক অর্থে অস্তিত্ব রক্ষার সেই লড়াইয়ের আগে বৃহস্পতিবার ফিকে রইল কালীঘাটের বিজয়া সম্মিলনী। বিকেল থেকে দলে দলে নেতা-কর্মী ভিড় করলেও তা বিজয়ার প্রীতি-সম্মিলনী হয়ে ওঠেনি। বরং, এমন মিষ্টিমুখহীন দিন কালীঘাটে কার্যত ছিল প্রথম। কমিশনের শুনানির জন্য জেলা থেকে আসা নেতাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করেছেন মমতা-তৃণমূলের উপস্থিত নেতারা। দলের পক্ষে যে হলফনামা জমা দিতে হবে, তা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন দোলা সেন, কুণাল ঘোষেরা।
ভোটের পরে কলকাতার বাইরে শ্রীরামপুরে প্রথম সভা করেছিলেন মমতা। সেখানেই তিনি জানিয়েছিলেন, তৃণমূল হারেনি। এ বার বিজয়া দশমী করবেন না তাঁরা। সেই মতোই কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে সাংগঠনিক বিষয়ে কথাবার্তা হয়েছে। তবে শুভেচ্ছা বিনিময়, প্রণাম ইত্যাদি এড়িয়ে শুধুই সাংগঠনিক মত বিনিময় করেন তাঁরা। পরে পৌঁছন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। গাড়ি থেকে নেমে দ্রুত বাড়ির ভিতরে চলে যান তিনি। দু-এক জন এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও সুযোগ পাননি। পরিবেশ যে ভিন্ন, তা মেনে নিয়েই উপস্থিত এক প্রাক্তন বিধায়ক বলেন, ‘‘ভোটের পর থেকে আমাদের কয়েক হাজার কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে। অনেকে ঘরছাড়া, অনেকে আক্রান্ত। এই অবস্থায় উৎসব করা যায় না।’’ সেই সঙ্গেই চোরবাগানের দুর্ঘটনায় মৃত্যুতে শোকাহত তৃণমূল নেত্রী উচ্ছ্বাস এড়ানোর কথা বলেছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে শনি ও রবিবার মিষ্টিমুখ, উৎসবের আবহ ছাড়া বাড়িতে কর্মী- সমর্থকদের দেখা করবেন মমতা।
তৃণমূল প্রতিষ্ঠার পর থেকে উৎসবের দিনে দলের যে নেতাদের বাহারি উপস্থিতিতে মমতার উঠোন গমগম করত, এ দিন তাঁরাও কেউ ছিলেন না।