দিল্লির আন্দোলনকে সামনে রেখে রাজ্যে নির্বাচন দফতরের উপরে চাপ বাড়াচ্ছে মমতা-তৃণমূল। দলীয় সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার বলেছেন, ‘‘জ্ঞানেশ কুমার ডুবলে মনোজ আগরওয়াল ডুববেন, সুব্রত গুপ্তও ডুববেন!’’ সেই সূত্রেই রাজ্যের নির্বাচনের পরেই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্ত দুই সর্বোচ্চ আধিকারিকের রাজ্য সরকারে নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
তৃণমূলের ক্যামাক স্ট্রিট অফিসের অশান্তির ঘটনায় এ দিন শেক্সপিয়র সরণি থানায় জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন অভিষেক। চার ঘণ্টারও বেশি সময় জিজ্ঞাসাবাদের পরে বেরিয়ে এসে তাঁর দাবি, ‘‘ভোট চুরি করে এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে বলেই তৃণমূলকে ভয় পাচ্ছে। মামলা করে তৃণমূলকে ভয় দেখানো যাবে না।’’ রাজ্য ও কেন্দ্রীয় একাধিক তদন্ত সংস্থার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘আমাকে যখন ডেকেছে আমি গিয়েছি। ভবিষ্যতেও যাব।’’ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, ‘‘তাঁরা বিজেপিতে পালিয়ে গিয়েছেন!’’ রাজ্যের বিজেপি সরকারের পাঁচ মাসে আইনশৃঙ্খলার অবনতির অভিযোগ করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরে নিগ্রহের চেষ্টা হচ্ছে বলেও ক্ষোভ জানিয়েছেন অভিষেক।
কেন্দ্র ও রাজ্যের সরকারকে ‘অবৈধ’ দাবি করে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন অভিষেক। সেই সূত্রেই রাজ্যে বিধানসভা ভোটের সময়ে দায়িত্বে থাকা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) সময়ে বিশেষ দায়িত্বে থাকা পর্যবেক্ষক সুব্রতের নাম করে তিনি বলেন, ‘‘যাঁর নেতৃত্বে এসআইআর হল, তাঁকে মুখ্যসচিব করা হল। যিনি ভোট চুরিতে সাহায্য করলেন, তিনি হলেন মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা! পদ দেওয়া হল শুধু ভোট চুরিতে সাহায্য করার জন্য।’’ মনোজকে নিশানা করে এ দিন সমাজমাধ্যমে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রও লিখেছেন, ‘আদালতে গিয়ে আমার মুখ বন্ধ করার চেষ্টার বদলে অন্য সহকর্মীদের মতো জানান, জ্ঞানেশ কুমারের মৌখিক নির্দেশে বেআইনি কী করেছেন’। সম্প্রতি নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে মহুয়ার মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন প্রাক্তন সিইও তথা বর্তমান মুখ্যসচিব মনোজ।