Advertisement
E-Paper

হামিম কাণ্ডে তৃতীয় গ্রেফতার! হাওড়া থেকে আদিত্য সিংহকে ধরল এসটিএফ, মন্ত্রী উমেশের তথ্য তিনিই ফাঁস করেন?

সোমবার হাওড়া থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে আদিত্য সিংহ ওরফে রাজ নামের এক জনকে। হাওড়ার বেলিলিয়াস রোডের বাসিন্দা তিনি। হামিম মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ অগস্ট ২০২৬ ১০:১৪
হামিম মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে গ্রেফতার হাওড়ার কলেজছাত্র আদিত্য সিংহ।

হামিম মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে গ্রেফতার হাওড়ার কলেজছাত্র আদিত্য সিংহ। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বর্ধমান থেকে জঙ্গিযোগের সন্দেহে ধৃত হামিম মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগে সোমবার হাওড়া থেকে আরও এক জনকে গ্রেফতার করা হল। ধৃতের নাম আদিত্য সিংহ ওরফে রাজ। হাওড়ার বেলিলিয়াস রোডের বাসিন্দা তিনি। উমেশচন্দ্র কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র (বিকম)। সূত্রের খবর, রাতেই পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) তাঁকে আটক করেছিল। জিজ্ঞাসাবাদের পর সকালে গ্রেফতার করা হয় আদিত্যকে। সোমবারই তাঁকে বর্ধমান আদালতে হাজির করানো হবে।

পুলিশ সূত্রে খবর, হাওড়ায় রাজ্যের মন্ত্রী উমেশ রাইকে খুনের হুমকি দিয়ে যে ফোন করা হয়েছিল, তার সঙ্গে এই আদিত্যের যোগ রয়েছে। তিনিই মন্ত্রীর বিভিন্ন তথ্য হামিমকে দিয়েছিলেন। মন্ত্রীর ছবি, গতিবিধি সংক্রান্ত বিভিন্ন খুঁটিনাটি সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে তাঁর যোগ ছিল বলেও পুলিশের সন্দেহ। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সোমবার আদিত্যের বাড়িতে যায় পুলিশ। পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন তদন্তকারীরা। তাঁর ঘরে তল্লাশিও চালানো হয়। আদিত্যের মা বলেন, ‘‘আমার ছেলে পড়াশোনা করে। কেন ওকে নিয়ে গেল, কার সঙ্গে কী কথা বলত, আমরা কিচ্ছু জানি না।’’

রাজ্যের নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী উমেশকে পাকিস্তান থেকে ফোন করে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। দাবি, মন্ত্রীকে খুনের এবং তাঁর পুত্রকে অপহরণ করার কথা বলা হয়েছিল। ফোন করেছিলেন আবিদ জাঠ নামের এক ব্যক্তি। অভিযোগ, মন্ত্রী এবং তাঁর পরিবারের সমস্ত তথ্য তাঁদের কাছে রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন আবিদ। প্রথমে এই হুমকি-ফোনকে উমেশ তেমন পাত্তা দেননি। পরে পুলিশকে বিষয়টি জানান। গোটা ঘটনার তদন্তভার যায় এসটিএফের হাতে। সেই তদন্তের সূত্রেই বর্ধমান থেকে গ্রেফতার করা হয় হামিমকে।

এর আগে হামিমের বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে ঝাড়খণ্ড থেকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। অভিযোগ, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গে তাঁদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। জঙ্গি নাশকতামূলক কাণ্ড ঘটানোর পরিকল্পনা ছিল পশ্চিমবঙ্গে। এমনকি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও তাঁদের নিশানায় ছিলেন। সূত্রের খবর, নিউটাউনে কিছু দিন থেকেছিলেন হামিম। শুভেন্দু যে রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন, সেখানে রেকিও করেছেন। কোন সময়ে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা সবচেয়ে কম থাকে, সেই সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। হামিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁর বান্ধবীর খোঁজ মেলে। অভিযোগ, এই মহিলাকে ‘হানিট্র্যাপ’ হিসাবে ব্যবহার করা হত। নেতা-মন্ত্রী এবং আমলাদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাঁদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করতেন অর্পিতা। ওই দু’জনের পর সোমবার ধরা পড়লেন এই চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও এক জন। আদিত্যের কী ভূমিকা ছিল, হামিমের সঙ্গে কত বার তাঁর যোগাযোগ হয়েছে, মন্ত্রীর কোন কোন তথ্য তিনি ফাঁস করেছেন, তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।

NIA West Bengal STF West Bengal Police Hamim Mondal

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy