Advertisement
E-Paper

সেনা এবং বিএসএফ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতে কলকাতায় এসেছিলেন ধৃত পাক নাগরিক! আর কী উঠে এল পুলিশি তদন্তে

এসটিএফ সূত্রে খবর, পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল রানার। তাঁদের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছিলেন। ভারতে স্থানীয় ভাবে ‘সেল’ তৈরি করতে বলা হয়েছিল তাঁকে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ অগস্ট ২০২৬ ২০:৫১
পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল হাবড়ায় ধৃত পাক নাগরিক রানা রউফের।

পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল হাবড়ায় ধৃত পাক নাগরিক রানা রউফের। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ভারতে বিশেষ কিছু কাজের বরাত নিয়ে এসেছিলেন পাকিস্তানি নাগরিক রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব আলম। তাঁকে কলকাতাতেও কিছু কাজ দেওয়া হয়েছিল। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এমনটাই জানতে পেরেছেন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) সদস্যেরা। তাঁর অন্যতম কাজ ছিল ভারতীয় সেনা এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গতিবিধি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা। কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ামে নজরদারিও চালাচ্ছিলেন তিনি।

এসটিএফ সূত্রে খবর, পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল রানার। তাঁদের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছিলেন। ভারতে স্থানীয় ভাবে ‘সেল’ তৈরি করতে বলা হয়েছিল তাঁকে। সংবেদনশীল, গোপন তথ্য সংগ্রহের জন্য লোক নিয়োগের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল রানাকে। কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তাঁর নজর ছিল। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, ফোর্ট উইলিয়ামের ছবি, ভিডিয়ো এবং মানচিত্র সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল রানাকে। সেই কাজ তিনি শুরুও করেছিলেন। পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার ছক কষেছিলেন তিনি।

রানাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চার জন পাক চরের হদিস পেয়েছে এসটিএফ। তাঁদের মধ্যে এক জনের নাম জেডি। এটি কোনও বড় নামের সংক্ষিপ্ত সংস্করণ কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, বাংলাদেশে যাওয়ার সব রকম ব্যবস্থা করে ফেলেছিলেন রানা। সীমান্তের ও পারে পাভেল নামের জনৈক যুবক তাঁর অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু তার আগেই রানা ধরা পড়ে যান।

এসটিএফ সূত্রে খবর, বাংলাদেশে যাওয়ার ব্যবস্থা করার পর নিজের মোবাইল ফোনটি নষ্ট করে দিয়েছিলেন রানা। গ্রেফতারির সময় তাঁর কাছে কোনও বৈদ্যুতিন যন্ত্র পাওয়া যায়নি। তবে একটি ব্যাগ ছিল। সেখানে মিলেছে একটি নোটবুক। তাতে বেশ কিছু ফোন নম্বর রয়েছে। তদন্তকারীরা দেখেছেন, ওই সমস্ত নম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কার কিছু নম্বর রয়েছে। এ ছাড়া, দু’টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে তাঁর কাছ থেকে।

স্বাধীনতা দিবসের আগে আইএসআই যোগ সন্দেহে পাকিস্তানি নাগরিকের গ্রেফতারিতে বাংলাদেশ সীমান্তে তৎপরতা বেড়েছে। বুধবারই বনগাঁ সীমান্ত অঞ্চল, পেট্রাপোলে নিরাপত্তা কঠোর করা হয়। জিআরপি এবং আরপিএফ নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে যৌথ অভিযানও চালিয়েছে। স্টেশন চত্বরে বম্ব স্কোয়াড এবং মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি চালানো হয়েছে। চলছে যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং পরিচয়পত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়াও। পূর্ব বর্ধমান থেকে কিছু দিন আগে আইএসআই-এর সঙ্গে যোগাযোগের সন্দেহে হামিম মণ্ডলকে গ্রেফতার করেছিল এসটিএফ। তাঁর সঙ্গে এই রানার কোনও সম্পর্ক নেই, জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।

Pakistan Habra West Bengal STF West Bengal Police

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy