রাজ্যে পালাবদলের পরে সিবিআইয়ের স্কুল সার্ভিস কমিশন এবং প্রাথমিকের নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় রাজসাক্ষী হতে একের পর এক আবেদন আদালতে জমা পড়ছে বলে সূত্রের খবর।
সম্প্রতি শিক্ষা দফতরের এক আধিকারিক এসএসসি-র সিবিআইয়ের চারটি মামলায় রাজসাক্ষী হয়েছেন। ওই আধিকারিকের গোপন জবানবন্দি আলিপুর সিবিআই বিশেষ আদালতে জমা পড়েছে। আদালত সূত্রে খবর, এর পরে এসএসসির মামলায় আরও তিন জন অভিযুক্ত অফিসার রাজসাক্ষী হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। ওই আবেদন মঞ্জুরও করেছেন বিশেষ আদালতের বিচারক। শনিবার তাঁদের মধ্যে দু'জনের গোপন জবানবন্দি নেওয়াও হয়েছে।
সিবিআই সূত্রে দাবি, এসএসসির গ্রুপ ডি, গ্রুপ সি, একাদশ-দ্বাদশ ও নবম-দশম এবং প্রাথমিকের মামলায় অভিযুক্তের সংখ্যা শতাধিক। বেশির ভাগের নামে চার্জশিট পেশও সম্পূর্ণ। এখন তাঁরা জামিনে মুক্ত। তদন্তকারী এক অফিসারের কথায়, “তদন্ত প্রক্রিয়া চলাকালীন নিয়োগ দুর্নীতিতে জড়িত একাধিক অভিযুক্তকে গোপন জবানবন্দি দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিগত সরকারের আমলে অভিযুক্ত আধিকারিকেরা কেউই তাতে রাজি হননি। এখন তাঁরা ভোল বদলাচ্ছেন।” রাজ্যে পালাবদলের পরে রাজসাক্ষী হওয়ার জন্য যে অভিযুক্তেরা সম্প্রতি আবেদন করেছেন, তাঁরা বেআইনি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কী ভাবে জড়িয়ে ছিলেন, সিবিআইয়ের তরফে তার নথি আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।
তদন্তকারীদের কথায়, “নিয়োগ দুর্নীতিতে বেশ কয়েক জন অফিসার জড়িত থাকতে বাধ্য হয়েছিলেন। এসএসসির কর্তা বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ তাঁরা মানতে বাধ্য হন। কিন্তু নিয়োগ দুর্নীতি থেকে তাঁরা কোনও ভাবে লাভবান হননি। এই ধরনের অভিযুক্তদের আরও অনেকেই রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করছেন।” সূত্রের খবর, সমস্ত নথি খতিয়ে দেখে আবেদনকারীদের রাজসাক্ষী হওয়া মঞ্জুর করে গোপন জবানবন্দি দেওয়ায় সম্মতি দিতে পারে কোর্ট। আদালতের একটি সূত্র মারফত দাবি, মূলত প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, প্রাক্তন উপদেষ্টা শান্তিপ্রসাদ সিংহ, প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুবীরেশ ভট্টাচার্যকে মূল চক্রী বলে চিহ্নিত করে নতুন রাজসাক্ষীরা গোপন জবানবন্দি দিতে পারেন বলে মনে হচ্ছে।
এমনই এক রাজসাক্ষীর কথায়, "বিগত সরকারের আমলে রাজসাক্ষী হওয়াটা নিরাপদ বলে মনে হত না। কারণ ওই দুর্নীতি চক্রের সঙ্গে রাজ্যের তখনকার শাসক দলের প্রভাবশালীদের যোগ থাকার প্রভূত সম্ভাবনা উঠে এসেছে। কিন্তু এখন রাজসাক্ষী হওয়ার সাহস পাচ্ছি।"