রবিবার সকালে রামলীলা ময়দানে ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চের মহা সমাবেশের আগে, শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানী পৌঁছলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পরই সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকে সাউথ অ্যাভিনিউয়ে মমতার বাসস্থানে এসে প্রায় ১ ঘণ্টারও বেশি সময় বৈঠক করেন। চা-পকোড়া সহযোগে রাজনৈতিক আলোচনা হয়েছে বলে জানাচ্ছে রাজনৈতিক সূত্র। তারপর বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন দু’জনে। মমতা বলেন, ‘‘আজ অনেকেই জেন জ়ি আন্দোলনের কথা বলছেন। কিন্তু আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে, কারা এই আন্দোলন শুরু করেছিল। সিজেপি-ই তার প্রতিষ্ঠাতা।’’ তাঁর কথায়, ‘‘এঁরা এসআইআর নিয়ে আন্দোলনের প্রবক্তা। নির্বাচন কমিশন এবং গোটা এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রথম আশঙ্কা প্রকাশ শুরু করেছিল।’’
আগামিকালের বিরোধী সমাবেশে যাবেন কি না তা স্পষ্ট করেননি দীপকে। রাজনৈতিক সূত্রের বক্তব্য, সমাবেশ নিয়ে নেতিবাচক কথা বলে কালকের উদ্দীপনায় জল ঢালতে চাননি তিনি। তবে দীপকেদের না যাওয়ারই পরিকল্পনা রয়েছে। মমতা বলেছেন, “ওঁরা আগামিকালের সমাবেশের জন্য পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। আমরাও তাঁদের সমর্থন এবং সহমর্মিতা জানিয়েছি। ওঁদের আগামিকালের কর্মসূচিতে যোগ দিতে আমন্ত্রণও জানিয়েছি। অভিজিৎ, আশুতোষ, সৌরভরা দুর্দান্ত কাজ করছেন।” তৃণমূল নেত্রী জানিয়েছেন, তিনি দীপকেদের পশ্চিমবঙ্গে যাওয়ার জন্যও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
সিজেপি নেতার কথায়, “আমি দিদিকে ধন্যবাদ দিতে এসেছিলাম। যন্তর মন্তরের আগে এবং পরে তিনি আমাদের পাশে অটল হয়ে থেকেছেন। সৌরভ এবং আশুতোষকে যখন বেআইনি ভাবে গ্রেফতার করা হল তখনও তিনি আমাদের পাশে ছিলেন।” পরে এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করেও মমতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে রবিবারের রামলীলা ময়দানের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দীপকে।
এ দিন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের বাংলোর লনকে মুড়ে দেওয়া হয়েছিল সবুজ কার্পেটে, যা পুরনো সংসদভবনের কার্পেটের রং। আলোকোজ্জ্বল লনে দু’টি বড় পর্দায় দেখা যাচ্ছিল অধিবেশনের কার্যসূচি। মঞ্চে স্পিকারের আসনে বসা মীরা কুমার তাঁর পুরনো অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পরিচালনা করলেন আগাগোড়া, যাতে সামনে চেয়ারে বসা সব সাংসদ এবং নাগরিক সমাজ বলার সুযোগ পান।
বাংলার ‘ভোট চুরি’ নিয়ে বলেছেন তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষ এবং মহুয়া মৈত্র। সাগরিকা প্রশ্ন তুলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে তথ্যগত অসঙ্গতির কারণ দেখিয়ে ২৭ লক্ষ মানুষের নাম বাদ গিয়েছে। এখন সুপ্রিম কোর্ট বলছে, তথ্যগত অসঙ্গতি অন্তর্বর্তী পদক্ষেপ, তা আইনত বৈধ কি না, তার বিচার হয়নি। তা হলে তথ্যগত অসঙ্গতির বিষয়টিকে অনুমতি দেওয়া হল কেন? তাঁর কথায়, “বাংলার ২০২৬ নির্বাচন চুরি হয়েছে। বিজেপি ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসেছে। মুখ্য নির্বাচনী কমিশনারের বিরুদ্ধে এর আগে কখনও এমন অভিযোগ আসেনি। উনি আসলে ভ্যানিশ কুমার! ২৭ লক্ষ মানুষকে ভ্যানিশ করে দিয়েছেন তথ্যগত অসঙ্গতির দোহাই দিয়ে, যাঁরা সবাই জলজ্যান্ত মানুষ। এঁদের মধ্যে যাঁদের আপিলের ট্রাইবুনাল ফয়সালা করেছে, তাঁদের ৯১ থেকে ৯৩ শতাংশ ভোটার তালিকায় ফিরে এসেছেন। এটা আসলে এনডিএ জোট নয়, মোদী-শাহ-জ্ঞানেশ জোট, এমএসজি জোট।” মহুয়া বলেন, “মনে রাখতে হবে ৫১-৫২ সালের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে সুকুমার সেন ১৭ কোটি ভোটারের নাম তালিকাভূক্ত করেছিলেন যাঁদের ৮৫ শতাংশ ছিলেন নিরক্ষর, বহু মানুষের কোনও কাগজপত্র ছিল না। তা সত্ত্বেও কমিশন মানুষের দরজায় দরজায় ঘুরে নিশ্চিত করেছিল, যাতে দেশভাগের ফলে উদ্বাস্তু-সহ সব নাগরিক ভোট দিতে পারেন। আর আজ সেই নির্বাচন কমিশনার ১৩ কোটি ভোটারের নাম কেটে দিয়ে নাগরিকত্ব প্রমাণের বোঝা তাঁদের ঘাড়ে চাপিয়েছেন। সুকুমার সেনের নিজের রাজ্য বাংলা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের ৭১ শতাংশ মুসলমান, ৫১শতাংশ মহিলা।”
জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ চেয়ে বলেন, “তিনি শুধুমাত্র দাবার বোড়ে মাত্র, পিছনে রয়েছে বড় বড় মাথা। তাঁদের সরাতে হবে। রাহুল গান্ধী আমাদের আগের বৈঠকে বলেছিলেন, আমরা খাদের কিনারায় চলে এসেছি, আর উপায় নেই। ঘুরে দাঁড়াতেই হবে। আমি এই কথা সম্পূর্ণ সমর্থন করি।” প্রবীণ আইনজীবী ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কপিল সিব্বল বলেন, “ওঁরা আমাদের দিমাগি নকশাল বলেছেন। আমি তো বলব, ওঁরা আসলে দিমাগি বুলডোজ়ার! চিন্তাভাবনার উপর, গণতন্ত্রের উপর, সংবিধানের উপর বুলডোজ়ার চালাচ্ছে এই সরকার।”