‘নন্দীগ্রামে মর্যাদা পাচ্ছে না গণতন্ত্র’—মূলত এই সুরে বৃহস্পতিবার প্রচার সারলেন নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। তবে এ দিন দলীয় প্রার্থী হাসিরানী রথের প্রচারে গিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য পাল্টা কংগ্রেস আমলে জরুরি অবস্থার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।
মিলনের অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেছে কলকাতা হাই কোর্ট। সে জামিন খারিজ করতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে রাজ্য সরকার। এ দিন কংগ্রেসের নন্দীগ্রাম-১ ব্লক কার্যালয়ের সামনে থেকে প্রচার শুরু করে হেঁটে জনসংযোগ করেন মিলন। তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘‘গণতন্ত্রে সব দলই থাকবে। কিন্তু এখানে গণতন্ত্রকে মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে না।’’
পক্ষান্তরে, প্রচারে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক বলেছেন, ‘‘এখানে কংগ্রেসের প্রার্থীকে গ্রেফতার করা হল। তাই নিয়ে ওঁদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বলছেন, গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে। দেশের জরুরি অবস্থার সময় পশ্চিমবঙ্গ-সহ গোটা দেশে গণতন্ত্র হত্যা করেছিলেন ওঁরাই।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘আমরা চাই, বিরোধীরা থাকুন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে আমাদের দলের পতাকা খোলার মতো যেমন লোক নেই, তেমন বিরোধী দলের পতাকা লাগানোর লোক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’’
মহেশপুরে রোড-শো এবং গোকুলনগরে সভা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সুরেই শমীক দাবি করেছেন, জয়-পরাজয় নয়। নন্দীগ্রামে জয়ের ব্যবধান বাড়ানোই দলের লক্ষ্য। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি শমীকের কটাক্ষ, ‘‘প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে বলব, আপনাকে কোথাও যেতে হবে না। হৃদমাঝারে রাখব। আর যিনি নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরে ডিজে বাজাবেন বলেছিলেন, তাঁকেও বলব, আপনি আমাদের সঙ্গে ভালবাসা করুন।’’ মমতা-তৃণমূলের পূর্ব মেদিনীপুরের নেতা অখিল গিরি বলেন, ‘‘মানুষ চার মাসেই যে ভাবে সরকারের সমালোচনা করছেন, তাতে কিছু দিনের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে এই সরকারের মেয়াদ কত দিন!’’
এ দিন সিপিআই প্রার্থী শান্তিগোপাল গিরির সমর্থন প্রচারে এসেছিলেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা সুজন চক্রবর্তী। আইএসএফ প্রার্থী সবে মিরাজ আলির সমর্থনে সভা করেন নওশাদ সিদ্দিকী।