E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

নাবালিকা বধূর অপমৃত্যুতে নজরে পিত্রালয়ের ভূমিকাও

নাবালিকার বাবার অভিযোগ, ‘‘নিয়মিত মদ্যপান করত জামাই। আমার কাছে টাকা চেয়ে মেয়ের উপরে অত্যাচার করত। শুক্রবার সকালে মেয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে ফোন করে জানায়, অশান্তি হচ্ছে। দুপুরে ফের ফোন করে দাদাকে পাঠাতে বলে।’’

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:৫৯

—প্রতীকী চিত্র।

বিষক্রিয়ায় অসুস্থ এক বধূকে আনা হয়েছিল পূর্ব মেদিনীপুরের একটি গ্রামীণ হাসপাতালে। বাঁচানো যায়নি। তবে জানা গিয়েছে, ১৭ বছর ১০ মাসের ওই নাবালিকা বধূর চার বছরের এক শিশুকন্যা রয়েছে। অর্থাৎ সে মা হয়েছিল মাত্র ১৩ বছরে।

অন্তঃসত্ত্বা নাবালিকার ক্ষেত্রে স্বামী, শ্বশুরবাড়ি, বাপেরবাড়ির সদস্য থেকে প্রয়োজনে পুরোহিত, কাজিদেরও গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের নানা প্রান্তে ধরপাকড় শুরু হয়েছে। এই আবহে পূর্ব মেদিনীপুরের এই ঘটনায় আলোড়ন পড়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই নাবালিকা বধূকে শুক্রবার দুপুরে শ্বশুরবাড়ি থেকেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। শ্বশুরবাড়িতে মেয়েকে নির্যাতন করা হত বলে মৃতার বাবা পুলিশে অভিযোগ করেছেন। তার ভিত্তিতে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য তমলুক মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে। তবে শনিবার পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি। জেলার পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা বলেন, ‘‘অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি পদক্ষেপ হবে। তদন্তে নাবালিকার শ্বশুরবাড়ির পাশাপাশি বাপের বাড়ির লোকজনের ভূমিকাও খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

জানা গিয়েছে, বছর পাঁচেক আগে ওই নাবালিকা ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াকালীন জেলারই বাসিন্দা এক নাবালকের সঙ্গে পালিয়ে বিয়ে করেছিল। পরের বছরই কন্যাসন্তান হয়। তখন নার্সিংহোমে প্রসব হয়েছিল। মাত্র ১২ বছরে মেয়েকে বিয়ে দিলেন কেন? নাবালিকার বাবার দাবি, ‘‘ওই ছেলের সঙ্গে মেয়ে আগেও দু’বার পালিয়ে গিয়েছিল। তখন বুঝিয়ে ফিরিয়ে এনেছিলাম। তৃতীয় বার পালিয়ে মন্দিরে গিয়ে বিয়ে করে। বিয়ে না মানলে আত্মহত্যার হুমকি দেয় মেয়ে। বাধ্য হয়ে মেনে নিয়েছিলাম।’’

ওই নাবালিকার স্বামী ফুলের কাজের সূত্রে আগে ভিন্‌ রাজ্যে থাকলেও কয়েক মাস হল গ্রামে ফিরেছিল। নাবালিকার বাবার অভিযোগ, ‘‘নিয়মিত মদ্যপান করত জামাই। আমার কাছে টাকা চেয়ে মেয়ের উপরে অত্যাচার করত। শুক্রবার সকালে মেয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে ফোন করে জানায়, অশান্তি হচ্ছে। দুপুরে ফের ফোন করে দাদাকে পাঠাতে বলে।’’ নাবালিকার দাদার বক্তব্য, ‘‘ওখানে গিয়ে দেখি, বোন অচৈতন্য হয়ে পড়ে রয়েছে। শ্বশুরবাড়ির লোকেরা বলে, কীটনাশক খেয়েছে। আমি ও ভগ্নীপতি হাসপাতালে নিয়ে যাই। তার পরেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়েছে। ভাগ্নীকেও লুকিয়ে রেখেছে।’’

অন্য দিকে, শুক্রবার রাতে বীরভূমের ময়ূরেশ্বরে নাবালিকা মাতৃত্বের অভিযোগে মেয়েটির স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এক বছর আগে মুর্শিদাবাদের ওই নাবালিকার সঙ্গে বীরভূমের যুবকটি পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে। তিন দিন আগে ওই নাবালিকা কলকাতার সরকারি হাসপাতালে প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে ভর্তি হয়। হাসপাতাল থেকেই পুলিশে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। শুক্র ও শনিবার মিলিয়ে প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে ছ’জন নাবালিকা ভর্তি হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। তাদের কথাও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্থানীয় থানায় জানিয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, এখন রোগী ভর্তির সময় আধার কার্ড লাগছে। ফলে, নাবালিকা অন্তঃসত্ত্বাদের বিষয়টি সহজেজানা যাচ্ছে।



এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
police investigation Purba Medinipur

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy