মাসের শেষ অবধি আর অপেক্ষা করতে হবে না। পুজো উপলক্ষে অক্টোবর মাসের বেতন এ বার আগেই পাবেন সরকারি কর্মীরা। শুধু বেতন নয়। পেনশন এবং বর্ধিত মহার্ঘ ভাতা (ডিএ)-ও মিলবে আগেই। বুধবার অর্থ দফতরের তরফে এমনই এক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। নবান্ন ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, কোন দিন এই অগ্রিম বেতন ও পেনশন এবং বর্ধিত ডিএ মিলবে।
এমনিতে প্রতি মাসে বেতন ও পেনশন দেওয়া হয় মাসের শেষ দিকে। কিন্তু এ বার যেহেতু পুজো পড়েছে অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে, তাই বেতন ও পেনশন আগেই দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। অর্থ দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অক্টোবরের বেতন, অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের বেতন, মজুরি, পারিশ্রমিক, স্টাইপেন্ড এবং সাম্মানিকের সঙ্গে বর্ধিত ডিএ দেওয়া হবে ১৫ তারিখ। অর্থাৎ দুর্গাপুজোর পঞ্চমীর দিন। একই দিনে অক্টোবর মাসের পেনশন এবং পারিবারিক পেনশনও মিটিয়ে দেওয়া হবে।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট— অর্থ দফতরের গত ৪ অগস্টের নির্দেশ অনুযায়ী যেখানে প্রযোজ্য সেখানে বর্ধিত ডিএ এবং ডিয়ারনেস রিলিফ (ডিআর)-সহ এই টাকা দেওয়া হবে। অর্থ দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী, বিল এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শপত্র ট্রেজ়ারিতে আগাম জমা দিতে হবে। নির্দিষ্ট সময় মেনে টাকা মেটানোর জন্য সংশ্লিষ্ট ডিডিও এবং ডিপোজ়িট অ্যাকাউন্টের প্রশাসকদেরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। অর্থ দফতরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবরের মধ্যেই বেতন ও পেনশন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। ফলে দেবীপক্ষেই সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের হাতে অক্টোবরের বেতন, পেনশন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বর্ধিত ডিএ পৌঁছোবে।
আরও পড়ুন:
মে মাসে নতুন সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ২০ শতাংশ দিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। সেই ২০ শতাংশ ডিএ অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গেই দেওয়া হচ্ছে। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন কর্মচারী আন্দোলনের প্রবীণ নেতা এবং ন্যাশনালিস্ট পেনশনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান উপদেষ্টা মনোজ চক্রবর্তী। তাঁর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, এই নির্দেশনামা তারই বাস্তবায়নের রূপ। তবে সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি রাজ্যের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের একাংশের মধ্যে অন্য প্রশ্নও উঠছে। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘সরকারের এই সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, শুধু সরকারি কর্মচারী, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী-অধ্যাপক এবং পঞ্চায়েত দফতরের কর্মীরাই এই সুযোগ পাবেন। বার বার অনুরোধ করা সত্ত্বেও রাজ্যের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিমের আওতায় নেওয়া হচ্ছে না কেন? কেন সরকার আমাদের দুয়োরানি করে রেখেছে?’’