পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন পরিকাঠামো ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের গতি সচল রাখতে পদক্ষেপ করল নবান্ন। চলতি আর্থিক বছরে ‘স্টেট ডেভেলপমেন্ট স্কিম’ বা রাজ্য উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে থাকা বিভিন্ন কাজের জন্য বার্ষিক বাজেটের মোট ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ খরচে ছাড়পত্র দিল অর্থ দফতর। মঙ্গলবার নবান্নের তরফে এই সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। মূলত এপ্রিল, মে, জুন এবং জুলাই— এই চার মাসের অন্তর্বর্তিকালীন বাজেট বা ‘ভোট-অন-অ্যাকাউন্ট’-এ বরাদ্দ অর্থের সাপেক্ষেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
অর্থ দফতরের এই নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, গ্রামীণ এলাকার পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও সমপরিমাণ অর্থ খরচ করা যাবে। ‘রুরাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ফান্ড’ -এর অধীনে থাকা প্রকল্পগুলিও সরাসরি এর আওতায় আসবে। নবান্ন জানিয়েছে, প্রশাসনিক দফতরগুলি তাদের অনুমোদিত প্রকল্পের জন্য সরাসরি এই ফান্ড মঞ্জুর করতে পারবে। তবে সব ক্ষেত্রে এই নিয়ম খাটবে না। নির্দেশিকায় স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, পঞ্চদশ ও ষোড়শ অর্থ কমিশনের প্রকল্প, সমস্ত কেন্দ্রীয় ‘স্পনসরড স্কিম’ এবং যে সমস্ত প্রকল্পে কেন্দ্রের আর্থিক সহায়তা রয়েছে, সেগুলির ক্ষেত্রে সরাসরি টাকা ছাড়া যাবে না। এই সব ক্ষেত্রে অর্থ দফতরের বাজেট শাখার আগাম অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি ঋণ, ভর্তুকি এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও অর্থ দফতরের চূড়ান্ত ছাড়পত্র লাগবে।
আরও পড়ুন:
সরকারি তহবিলের সঠিক ব্যবহার ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বেশ কিছু কড়া শর্ত আরোপ করেছে রাজ্য। পূর্ববর্তী কিছু মেমোরেন্ডামের সূত্র উল্লেখ করে নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যে কোনও প্রকল্পের অর্থ অনুমোদন করার আগে সংশ্লিষ্ট দফতরের আর্থিক উপদেষ্টার (ফিন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজ়র) অনুমোদন থাকতে হবে। পূর্ব নির্ধারিত বাজেটের বাইরে গিয়ে কোনও অতিরিক্ত অর্থ খরচ করা যাবে না। কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, ‘‘অনুমোদিত নিয়মের বাইরে গিয়ে কোনও রকম প্রযুক্তিগত বা অন্যান্য পরিবর্তন কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।’’
রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব পি কে মিশ্রের স্বাক্ষর করা এই নির্দেশিকাটি মঙ্গলবার থেকেই রাজ্য জুড়ে কার্যকর হচ্ছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক, জেলা বিচারক, ট্রেজ়ারি অফিসার, অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল এবং বিভিন্ন দফতরের সচিবদের কাছে এই নির্দেশিকার প্রতিলিপি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। অর্থ দফতরের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেছেন, ‘‘প্রশাসনিক স্তরে উন্নয়নের কাজ সচল রাখাই আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য, তবে আর্থিক শৃঙ্খলার সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না।’’ এই নির্দেশিকার ফলে যেমন একাধারে আটকে থাকা উন্নয়নমূলক কাজগুলি গতি পাবে, তেমনই কড়া নজরদারির কারণে সরকারি টাকার অপচয়ও বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।