জমি ও বাড়ি রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে জালিয়াতি রুখতে বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। কারও অজান্তে তাঁর জমি অন্যের নামে বিক্রি বা রেজিস্ট্রি হয়ে যাওয়ার মতো অভিযোগে লাগাম টানতে নতুন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু করতে চলেছে রাজ্য। ‘আপনি’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে রেজিস্ট্রি অফিসে আসা ক্রেতা ও বিক্রেতার পরিচয় যাচাই করা হবে। পরিচয় যাচাই সম্পূর্ণ না হলে কোনও ভাবেই রেজিস্ট্রির মূল প্রক্রিয়ায় এগোনোর অনুমতি মিলবে না।
নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী সপ্তাহ থেকেই পরীক্ষামূলক ভাবে বিধাননগর পুরসভা এলাকায় ‘আপনি’ অ্যাপ চালু করা হবে। প্রায় দু’সপ্তাহ ট্রায়াল রান চলার পর ধাপে ধাপে গোটা রাজ্যে এই ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থ দফতরের অধীন ‘ডাইরেক্টরেট অফ স্ট্যাম্প ডিউটি অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন’ এর বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, দুর্গাপুজোর আগেই রাজ্যের সর্বত্র এই ব্যবস্থার সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, জমি বা বাড়ি বিক্রির ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রির আবেদন জমা দেওয়ার পর ক্রেতা ও বিক্রেতা— দু’পক্ষকেই একটি কোয়্যারি বা আবেদন নম্বর দেওয়া হবে। সেই পর্যায়েই প্রাথমিক পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এর পর ক্রেতা ও বিক্রেতাকে নিজেদের মোবাইলে ‘আপনি’ অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে। সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে অ্যাপটির আকার মাত্র চার এমবি রাখা হয়েছে। ফলে স্মার্টফোনে বেশি জায়গা দখল করবে না। সহজ ব্যবহারের জন্য অ্যাপটি ব্যবহারবান্ধবও করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয় যাচাইয়ের পদ্ধতিও অভিনব। নির্দিষ্ট কোয়্যারি নম্বর দিয়ে অ্যাপে প্রবেশ করার পর ক্রেতা বা বিক্রেতাকে নিজের সামনে মোবাইল ফোন ধরে চোখের পাতা দু’বার ফেলতে হবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় যাচাইয়ের বার্তা রাজ্যের নির্দিষ্ট পোর্টালে পৌঁছে যাবে। সেই বার্তা কেবল রেজিস্ট্রার বা রেজিস্ট্রি অফিসের সংশ্লিষ্ট আধিকারিক দেখতে পারবেন। অর্থাৎ, ব্যক্তির উপস্থিতি এবং পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে রেজিস্ট্রির পরবর্তী ধাপে যাওয়া সম্ভব হবে না।
এই ব্যবস্থায় ‘জিয়ো-ফেন্সিং’-এর মতো প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে পূর্বনির্ধারিত তারিখে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রি অফিসে উপস্থিত থেকেই পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। বাড়িতে বসে বা অন্য কোনও জায়গা থেকে এই যাচাই করার সুযোগ থাকবে না। প্রশাসনের আশা, এর ফলে কেউ অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে জমি বা বাড়ি বিক্রি করতে গেলে রেজিস্ট্রি অফিসেই তা ধরা পড়বে। এর আগে জমি জালিয়াতি ঠেকাতে রেজিস্ট্রির সময় জমির মালিকের মোবাইলে এককালীন পাসওয়ার্ড পাঠানোর ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। তবে প্রশাসনের একাংশের দাবি, সেই ব্যবস্থায় প্রত্যাশিত ফল না মেলায় পরবর্তী সময়ে তা কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। এর পরই প্রযুক্তির সাহায্যে আরও নির্ভরযোগ্য পরিচয় যাচাইয়ের পদ্ধতি খুঁজতে উদ্যোগী হয় বর্তমান সরকার।
নতুন অ্যাপ চালু হলে রেজিস্ট্রি অফিসে ক্রেতা ও বিক্রেতার উপস্থিতি এবং পরিচয় যাচাই বাধ্যতামূলক হবে। যাচাইয়ে কোনও অসঙ্গতি ধরা পড়লে সেখানেই আটকে যাবে জমি বা বাড়ি বিক্রির রেজিস্ট্রেশন। এর ফলে ভুয়ো বিক্রেতা, পরিচয় জালিয়াতি এবং মালিকের অজান্তে সম্পত্তি হস্তান্তরের মতো অভিযোগে রাশ টানা সম্ভব হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।