E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

বিবেচনার তালিকায় বহু বিএলও-ও

দক্ষিণ দিনাজপুরের আজমতপুরের অন্তশিমুল গ্রামে শনিবার রাতে বিএলও জয়ন্তী রবিদাসের বাড়িতে চড়াও হয় জনা সতেরো বাসিন্দা।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ০২ মার্চ ২০২৬ ০৯:২৪
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

নভেম্বরের গোড়া থেকেই মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দৌড়তে হয়েছে তাঁদের। ফর্ম বিলি, জমা নেওয়া, আপলোড করা, শুনানির নোটিস পৌঁছনো— কাজের অন্ত ছিল না। শনিবার প্রকাশিত ভোটার তালিকায় সেই বুথ লেভেল অফিসারদেরই (বিএলও) অনেকে ‘বিবেচনাধীন’। সেই সঙ্গে, তালিকা বেরোনোর পরে, হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও অভিযোগ বিএলও-দের একাংশের। তাঁদের ক্ষোভ, নির্বাচন কমিশন বার বার নানা নির্দেশ দিয়েছে। তাঁরা সে অনুযায়ী কাজ করেছেন। এখন তাঁদের হেনস্থার মুখে পড়তে হবে কেন?

দক্ষিণ দিনাজপুরের আজমতপুরের অন্তশিমুল গ্রামে শনিবার রাতে বিএলও জয়ন্তী রবিদাসের বাড়িতে চড়াও হয় জনা সতেরো বাসিন্দা। অভিযোগ, তাঁর মোবাইল ভেঙে গালিগালাজ করা হয়, হুমকি দেওয়া হয়। রবিবার দুপুরে মালদহের চাঁচলে বিএলও মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়িতে বিক্ষোভ দেখান কয়েক জন। ওই বিএলও-র নিজের নামও ‘বিবেচনাধীন’। ঝাড়গ্রাম শহরে বিএলও নির্মলেন্দু মাহাতোকে শনিবার রাতে ফোন করে এক ব্যক্তি মারধরের হুমকি দেন বলে অভিযোগ। নির্মলেন্দু পুলিশে অভিযোগ করেছেন।

বীরভূমের রামপুরহাটের বগটুই গ্রামের বিএলও রাজ্জাক আলিও আছেন সে তালিকায়। তিনি বলেন, ‘‘আমরা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করেছি। পুরো প্রক্রিয়ার অধিনায়ক কিন্তু কমিশন। তাই তালিকায় যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে বা বিবেচনাধীন আছে, তার দায় কমিশনেরই।’’ মুর্শিদাবাদের লালগোলার রাজানগরের বিএলও মহম্মদ আবুল ফজল বলেন, ‘‘মহম্মদের ভিন্ন বানানের জন্য আমাকে শুনানিতে ডাকা হয়। নথি দেওয়ার পরেও, আমার নাম বিবেচনাধীন রয়েছে। আমার বুথে ১,১৫৬ জন ভোটারের মধ্যে ৬২০ জনেরই এই অবস্থা।’’

জলপাইগুড়ির বানারহাটের বাসিন্দা আব্দুল লতিফ নিজের নাম ‘বিবেচনাধীন’ রয়েছে দেখে দাবি করেন, আর বিএলও-র দায়িত্ব পালন করবেন না। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট দক্ষিণের পাতিলাচন্দ্রের বিএলও কামাল হোসেন সর্দারের ক্ষোভ, “নির্বাচন কমিশন আমাদের উপরে ভরসা করে কাজ করাল। এলাকার মানুষের নথি যাচাই করলাম। এখন আমার নাম থাকবে কি না, সেটাই অনিশ্চিত!” দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় ১ ব্লকের ঘটকপুকুরের বিএলও জেসমিনা বেগম বলেন, ‘‘মানুষ জানতে চাইছেন, সমস্ত তথ্য দেওয়া সত্ত্বেও কেন তাঁদের নাম বিবেচনাধীন রয়েছে। আমরা কোনও উত্তর দিতে পারছি না।’’ হুগলির আরামবাগের বিএলও তথা প্রাথমিক শিক্ষক মনিরুদ্দিন মল্লিক জানান, ২০০২-এর তালিকার সঙ্গে নামের বানানের ফারাক থাকায় তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। তিনি পাসপোর্ট, মাধ্যমিকের শংসাপত্র, ওবিসি শংসাপত্র জমা দেন। তার পরেও কী কারণে ‘বিবেচনাধীন’ রইলেন, বুঝতে পারছেন না।

শুধু বিএলও-রা নন, বিবেচনাধীন তালিকায় রয়েছেন হুগলির খানাকুল ২-এর বিডিও মহম্মদ জাকারিয়াও। তালিকায় নাম বাদ গিয়েছে হাওড়ার উলুবেড়িয়া পূর্ব বিধানসভার মাইক্রো অবজ়ার্ভার, পূর্ব বর্ধমানের মেমারির বাসিন্দা রজত বন্দ্যোপাধ্যায়ের। রজত বলেন, ‘‘সন্দেহজনক ভোটার ধরার দায়িত্ব পেয়েছিলাম। শেষে আমাকেই তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দিল কমিশন!’’

সংক্ষেপে
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) শুরু হয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। গ্রাম থেকে শহর, বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছোতে শুরু করেছেন কমিশনের বুথ স্তরের আধিকারিকেরা (বিএলও)। শুরু হয়ে গিয়েছে এনুমারেশন ফর্ম বিলিও।
  • শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, দেশের আরও ১১টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেও একই সঙ্গে শুরু হয়েছে এসআইআরের কাজ। যাঁরা কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন, তাঁদের জন্য অনলাইনে এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করার ব্যবস্থা করেছে কমিশন।
সর্বশেষ
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Block Level Officer West Bengal SIR

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy