প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে শুক্রবারই প্রাতরাশ সেরেছিলেন। তার আগে বৈঠক করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও। এ বার নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করলেন তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া দুই সংখ্যালঘু সাংসদ। মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের খান এবং জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমান শনিবার বেলার দিকে নবান্নে যান। শুভেন্দুর সঙ্গে তাঁদের আলোচনা চলছে।
এনসিপিআই সূত্রে খবর, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনকে (এসআইআর) কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদে যে সমস্ত সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে শুভেন্দুর সঙ্গে কথা বলেন ওই দুই সাংসদ। এ ছাড়াও এলাকার বিভিন্ন সমস্যা তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছেন। এর আগে শুক্রবার এসআইআর সংক্রান্ত দাবিদাওয়া নিয়ে শুভেন্দুর সঙ্গে দেখা করেছিলেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিধায়কেরা।
আরও পড়ুন:
আবু তাহের এবং খলিলুরের শুভেন্দু-সাক্ষাতের ভিন্ন তাৎপর্য রয়েছে। কারণ, কিছু দিন আগে ‘বেসুরো’ হয়েছিলেন এনসিপিআই-এর এই সাংসদেরা। তাঁদের সঙ্গে বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পঠানও জানিয়ে দিয়েছিলেন, বিজেপি বা এনডিএ জোটের সঙ্গে তাঁরা নেই। এমনকি, এনডিএ জোটের বৈঠকে এনসিপিআই-এর বাকি ১৭ জন সাংসদ থাকলেও এই তিন জন যোগ দেননি। তাই এঁদের নিয়ে এনসিপিআই-তে ভাঙনের জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তবে তার পরপরই দিল্লিতে শাহের সঙ্গে দেখা করেন তাঁরা। মুর্শিদাবাদের তিন সাংসদের সঙ্গে ছিলেন বীরভূমের শতাব্দী রায় এবং অসিত মালও। তার পর শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে এনডিএ সাংসদদের প্রাতরাশে তাঁরা যোগ দেন।
এনডিএ বা বিজেপির সঙ্গে না থাকলেও এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে, জনগণের দাবিদাওয়া পূরণের স্বার্থে কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার বার্তা দিয়েছিলেন খলিলুরেরা। জানিয়েছিলেন, নিয়মিত প্রশাসনিক বৈঠকেও যোগ দেবেন। এলাকার মানুষের সমস্যার কথা সরকারের সামনে তুলে ধরবেন। তার প্রেক্ষিতেই শনিবার নবান্নে শুভেন্দুর সঙ্গে তাঁদের সাক্ষাৎ বলে মনে করা হচ্ছে।
এসআইআর-এর ফলে মুর্শিদাবাদের অনেক সংখ্যালঘু নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে বলে অভিযোগ। অনেক নাম এখনও বিবেচনাধীন রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কলকাতা হাই কোর্ট যে ট্রাইবুনাল গঠন করে দিয়েছে, সেখানে ওই বিবেচনাধীন নামের নিষ্পত্তি হচ্ছে। কিন্তু অভিযোগ, ট্রাইবুনালের কাজ এগোচ্ছে অত্যন্ত ধীর গতিতে। প্রতি জেলায় ট্রাইবুনাল গঠনের আর্জি নিয়ে শুক্রবার নবান্নে গিয়েছিল বিধায়কদের প্রতিনিধিদল। তারা একটি ডেপুটেশনও দেয় মুখ্যমন্ত্রীর হাতে। যদিও শুভেন্দু আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, এটি আদালতের বিষয়। এখানে তাঁর তেমন কিছু করার নেই। ট্রাইবুনালে বিবেচনাধীন থাকাকালীন কেউ কোনও সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন না, জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে এসআইআর-এ নাম বাদ পড়ার পরেও যাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করেননি, তাঁরা কোনও সুযোগসুবিধা পাবেন না।