প্রথামাফিক অগস্টের শেষে বিভিন্ন সংসদীয় দলের নেতারা লোকসভার স্পিকারকে তালিকা পাঠিয়ে জানিয়ে দেন, কোন মন্ত্রকের স্থায়ী কমিটিতে তাঁদের দলের কারা থাকবেন। সংশ্লিষ্ট দল থেকে কমিটির চেয়ারপার্সনের নামও প্রস্তাব করা হয়। এই মুহূর্তে যেমন লোকসভা থেকে তৃণমূলের কীর্তি আজাদ এবং রাজ্যসভা থেকে দোলা সেন রয়েছেন যথাক্রমে সার ও রসায়ন মন্ত্রক এবং বাণিজ্য মন্ত্রকের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারপার্সন হিসেবে। বিভিন্ন দল থেকে পাঠানো তালিকার ভিত্তিতে প্রতি বছর সেপ্টেম্বরের গোড়ায় স্পিকার নতুন কমিটিগুলি তৈরি করেন।
কিন্তু এ বার অভিনব পরিস্থিতি দলত্যাগের হিড়িকে। রাঘব চড্ডাদের মতো আপ নেতাদের বিজেপিতে যাওয়ার পাশাপাশি উদ্ধব ঠাকরেপন্থী শিবসেনা সাংসদদের একাংশ একনাথ শিন্দের শিবসেনায় যোগ দিয়েছেন। আবার তৃণমূল থেকে লোকসভার কুড়ি জন সাংসদ বেরিয়ে গিয়ে যোগ দিয়েছেন কার্যত অপরিচিত দল এনসিপিআই-তে। আবার এই এনসিপিআই-এর বৈধতা নিয়ে মামলা দায়ের হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। খাতায়-কলমে এই নতুন দলের সাংসদেরা এখনও ‘তৃণমূল কংগ্রেস’। কিন্তু তাঁরা এনসিপিআই দল হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে এনডিএ-র বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন। সব চেয়ে বড় শরিক দল হিসেবে এনসিপিআই নেতৃত্ব আশা করছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রদবদলের সময়ে সেই মন্ত্রিসভায় জায়গা এবং অন্তত দু’টি মন্ত্রকের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান পদ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন যেহেতু বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন, তাই প্রথামাফিক তৃণমূলের লোকসভার নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো তালিকার ভিত্তিতেই স্থায়ী কমিটির প্রতিনিধিদের বেছে নেওয়ার কথা। কিন্তু এনসিপিআই সূত্রের দাবি, স্পিকারের অফিস থেকে পাওয়া সঙ্কেত অনুযায়ী, তাঁরাই এ বার তৃণমূলের কোটার চেয়ারপার্সন পদগুলি পাবেন। সে ক্ষেত্রে কীর্তি আজাদকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। সরকারি সূত্রের বক্তব্য, আট জনের দলকে (বিদ্রোহী কুড়ি সাংসদকে বাদ দিলে, লোকসভায় আদি তৃণমূলের এই মুহূর্তের সাংসদ সংখ্যা) সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যানের পদ দেওয়া যায় না— এমন ভাবনাচিন্তাই চলছে।
বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তৃণমূল নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনের বক্তব্য, “এই খেলার রেফারি, লাইন্সম্যান, ভিডিয়ো রেফারি— সবাই বিজেপির! ফলে ওরা যা নিয়ম তৈরি করবে, সেই ভাবেই হবে। তবে আমরা সংবিধানের পক্ষে।” তিনি বলেন, তৃণমূলের নিয়ম, যাঁরা লোকসভা এবং রাজ্যসভার সংসদীয় দলের দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁদের কোনও সংসদীয় কমিটির চেয়ারপার্সন করা হয় না।