ভাঙড়ে বিজয়গঞ্জ বাজারে বোমা বিস্ফোরণ মামলায় ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে ইউএপিএ (বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন) ধারা যোগ করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। ইউএপিএ ধারা যোগ করার জন্য শুক্রবার এনআইএ-র বিশেষ আদালতে আবেদন করা হয়। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে।
এনআইএ-র দাবি, নির্বাচনের আগে অশান্তি ছড়াতে বোমা তৈরি ও বিস্ফোরণের ঘটনায় এমন কিছু তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে যে কারণে ইউএপিএ ধারা যোগ করা জরুরি ছিল। সেই মতোই বিশেষ আদালতে আবেদন করে এনআইএ।
শওকতকে ‘ভাঙড় বোমা বিস্ফোরণ মামলার মূল সন্দেহভাজন পলাতক’ হিসেবেও চিহ্নিত করে এনআইএ। এনআইএ জানিয়েছে, ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলায় গ্রেফতার হওয়া চতুর্থ অভিযুক্ত হলেন ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত। তিনি মূল ষড়যন্ত্রকারী ছিলেন এবং অন্য অভিযুক্তদের বোমা তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে তদন্তে এনআইএ জানতে পেরেছে। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, শওকত বিস্ফোরণস্থলের তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করার জন্য অন্য অভিযুক্তদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশেই রাজ্য পুলিশের কাছ থেকে মামলাটি গ্রহণ করার পর এনআইএ তদন্ত করছে।
উল্লেখ্য, বিধানসভা ভোটের দিন কয়েক আগে বিস্ফোরণে এক জনের প্রাণহানি হয়। জখম হন বেশ কয়েক জন। ওই ঘটনায় আইএসএফ চেয়ারম্যান তথা ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি এনআইএ তদন্তে দাবি করেন। শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাত থেকে তদন্তভার নেয় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। এনআইএ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পর মৃত ও আহতদের গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। অনুমান করা হচ্ছে, সেই সূত্র ধরে শওকতের খোঁজে ছিল এনআইএ। সূত্রের খবর, বিপদ বুঝে বাংলাদেশ পালানোর চেষ্টা করছিলেন তৃণমূল নেতা। কিন্তু সেই চেষ্টা সফল হয়নি। গত ৫ জুন রাতে ভাঙড়ে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় শওকতকে গ্রেফতার করে এনআইএ।
ভাঙড়ে বিস্ফোরণ কাণ্ডে দীর্ঘ দিন ধরেই শওকতকে খুঁজছিল এনআইএ। গ্রেফতারের দু’দিন আগে তাঁকে ফেরার ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে শওকত বাংলাদেশে পালানোর ছক কষেছিলেন বলে অভিযোগ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সীমান্ত সংলগ্ন চুনাখালির কাছে তাঁকে দেখা গিয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা চিনতে পেরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। এর পর গাড়ি ঘুরিয়ে নেন শওকত। অবশেষে গত ৫ জুন চিংড়িঘাটা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। সূত্রের দাবি, তিনি আত্মসমর্পণ করতে এনআইএ দফতরেই যাচ্ছিলেন। সেই পথে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
গত ৬ জুন তাঁকে নিয়ে কলকাতার নগরদায়রা আদালতে যায় এনআইএ । আদালতে শওকতকে হাজির করে নিজেদের হেফাজতে রাখার দাবি করেন তদন্তকারীরা। নিউ টাউনে এনআইএ-র দফতরের বাইরে শওকতবিরোধীরা জড়ো হয়েছিলেন। কারও হাতে ছিল মাছ, কারও হাতে ডিম। শওকতকে দফতর থেকে বার করা হতেই, তাঁরা সেগুলি ছোড়েন। সঙ্গে ‘মাছ চোর’ গান চালিয়ে নাচানাচিও করেন অনেকে। এ ছাড়া, শওকতের বিরুদ্ধে আদালত চত্বরে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মীরা। অনেকেই ক্যানিং থেকে কলকাতায় আসেন বিক্ষোভ দেখাতে। আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে তাঁরা প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। শওকতের ফাঁসির দাবিও জানিয়েছিলেন তাঁরা।