পশ্চিমবঙ্গে দলের রাজ্য সভাপতি হিসাবে শমীক ভট্টাচার্যের নাম ঘোষণার ১৪ মাস পরে বুধবার ২৭০ জনের পূর্ণাঙ্গ রাজ্য কমিটি ঘোষণা করল বিজেপি। নতুন কমিটিতে বিশেষ ভাবে জোর দেওয়া হয়েছে নতুন ও পুরনো নেতাদের সমন্বয়ে। সূত্রের দাবি, সমন্বয়ে জোর দিতে গিয়ে দৃশ্যত বহরে বড় হয়েছে কমিটি। সেখানে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিশির অধিকারী, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার-সহ নানা স্তরের নেতৃত্ব।
সূত্রের খবর, সব ঠিক থাকলে ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর রাজ্য-সফরে এসে নতুন রাজ্য কমিটির সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। তাঁর সঙ্গেই আসার কথা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) বি এল সন্তোষেরও। প্রসঙ্গত, রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে যে ভাবে নেতা-কর্মীদের ‘বিচ্যুতি’র অভিযোগ সামনে আসছে, সেই আবহে এই বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক শিবিরের একাংশ। নিতিনের এই সফরে প্রকাশ্য কোনও কর্মসূচি না-থাকার সম্ভাবনা বেশি।
কমিটি ‘বড়’ হওয়ার বিষয়ে এক রাজ্য-নেতার ব্যাখ্যা, পুরনো-নতুন সমন্বয়ের সঙ্গেই বিভিন্ন দিক খেয়াল রাখা হয়েছে। বিধানসভা ভোটে প্রার্থী করা হয়নি, এমন অনেকে নতুন কমিটিতে রয়েছেন। একই সঙ্গে, রয়েছেন অন্তত ৫০ জন বর্তমান বিধায়ক। রাজকমল পাঠকের মতো একদা বিক্ষুব্ধেরাও রয়েছেন কমিটিতে। একদা নিলম্বিত হয়েও দলে ফিরে রাজ্য কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন অভিজিৎ দাস (ববি)। কমিটিতে রয়েছেন দলের দীর্ঘ দিনের নেতা সায়ন্তন বসুও। বিজেপি সূত্রের খবর, সরকার গঠিত হওয়ার পরে নিচু তলায় শৃঙ্খলা-রক্ষা অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় স্তর থেকেই যাতে বিষয়টি সামাল দেওয়া যায়, সে দিকে লক্ষ্য রেখে দলের সাংগঠনিক জেলাগুলি থেকে দৃশ্যমান সংখ্যক প্রতিনিধি রয়েছে নতুন কমিটিতে। প্রসঙ্গত, এ দিনই দলীয় নির্দেশ অমান্য করে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগে ডায়মন্ড হারবার সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সোমা ঘোষকে কারণ দর্শানোর নোটিস (‘শো-কজ়’) ধরিয়েছে দলের শৃঙ্খলা-রক্ষা কমিটি।