নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে কুকথা বললে কেউ ছাড় পাবেন না। বুধবার নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠকে তা স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, এ ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতিতে চলবে। পুলিশকে রাজনৈতিক রং না-দেখে পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
নেতাজিকে নিয়ে রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ নগেন রায় ওরফে অনন্ত মহারাজের ‘কুকথা’ বিতর্ক থামছেই না। ভারতকে স্বাধীন করার ক্ষেত্রে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে তাঁকে ‘দেশদ্রোহী’ তকমা দিয়েছেন গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশন নেতা তথা বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ। শুধু অনন্ত মহারাজ নন, বিগত কয়েক দিনে সমাজমাধ্যমে নেতাজি এবং আজ়াদ হিন্দ ফৌজ নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য দেখা যাচ্ছে। নেতাজি-বিতর্ক নিয়ে সরব বিরোধীরা। বিজেপি নেতৃত্ব চুপ কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাম, তৃণমূল-সহ বিরোধী দলগুলি। এ বার সেই প্রসঙ্গে পদক্ষেপের কথা জানালেন শুভেন্দু।
বুধবারের সাংবাদিক বৈঠকের সময় শুভেন্দুর সঙ্গে ছিলেন কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়ির বিধায়কেরা। তাঁদের পাশে নিয়েই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক। নেতাজিকে যাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার করছেন বা অপমানজনক কথা বলছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন অনেকে। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ করতে আমি আমাদের সাইবার সেলকে নির্দেশ দিয়েছি।’’
মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, নেতাজিকে নিয়ে কুকথা বললে কেউ ছাড় পাবেন না। তাঁর কথায়, ‘‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-য় মামলা রুজু হবে। নির্দিষ্ট ধারায় গ্রেফতার করতেও নির্দেশ দিয়েছি।’’ তার পরেই শুভেন্দুর সংযোজন, ‘‘যাঁরা এ ধরনের দুঃসাহস দেখিয়েছেন, তাঁদের বলব এই দুঃসাহস ভাল নয়। আমাদের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এটাকে ভাল ভাবে নিচ্ছে না। বলব, অবিলম্বে ক্ষমা চান। যাঁরা এ ধরনের পোস্ট করেছেন, তা ডিলিট করুন।’’ তবে পোস্ট মুছে ফেললেই আইনের হাত থেকে ছাড় পাওয়া যাবে, তা ভাবা ঠিক নয়, জানান শুভেন্দু।
আরও পড়ুন:
মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশের পর উঠে আসে অনন্ত মহারাজের প্রসঙ্গ। সম্প্রতি অনন্ত দাবি করেন, ভারতকে স্বাধীন করার ক্ষেত্রে নেতাজির কোনও অবদান নেই। আজাদ হিন্দ ফৌজের অপব্যবহার করেছিলেন তিনি। তা নিয়ে শোরগোল পড়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন করা হয়, তবে কি অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে? শুভেন্দু বলেন, ‘‘আইন সকলের জন্য সমান।’’ তার পরেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘নেতাজিকে নিয়ে এ ধরনের প্রচারের নেপথ্যে কারা রয়েছেন, তা খুঁজে দেখবে পুলিশ। পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে এ সব হবে না। এ ধরনের পোস্ট যাঁরা করেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক রং না-দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
এ প্রসঙ্গে অনন্ত মহারাজকে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী কী বলেছেন আমি শুনিনি, আমি মনগড়া বা মিথ্যা কথা বলিনি।’’ এ-ও দাবি করেন, ‘‘কোথাও আমি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে বদনাম করিনি। যেটা ইতিহাস সেটাই বলেছি।’’
সম্প্রতি রাজ্যে পর পর দুই জঙ্গি ধরা পড়েছে। সেই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘এ সব আচমকা হচ্ছে না। এখন পুলিশ এবং এসটিএফ কাজ করছে। তাই ধরা পড়েছে। কেন্দ্র, রাজ্য তদন্তকারী সংস্থাগুলি একযোগে কাজ করছে। আগেও এ সব হত, তখন ধরা পড়ত না। এখন ধরা পড়ছে।’’ শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি, ‘‘আইন সকলের জন্য সমান। তিনি মন্ত্রী হন বা সান্ত্রী কিংবা পুলিশ— অন্যায় করলে সকলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’