বিশাল বটগাছে ঘেরা ছোট ইটের তৈরি মন্দিরে এখনও ইতিউতি চোখে পড়ে টেরাকোটার নকশা। জঙ্গলে ঘেরা ওই মন্দিরে দিনেও ছমছমে পরিবেশ। এক রাতের মধ্যে মূর্তি তৈরি করে ওই মন্দিরে কালীপুজো হয়। ভোরের আলো ফোটার আগেই দেওয়া হয় বিসর্জন। দক্ষিণ দিনাজপুরের তপনের ভিখাহারে প্রাচীন ওই মন্দিরে এ বারও নিষ্ঠার সঙ্গে নিয়ম মেনে কালীপুজোর প্রস্তুতি চলছে। কথিত আছে, একদা এক পুরোহিত রাতারাতি কালীমূর্তি গড়ে পুজো শুরু করেছিলেন। ভোরের আলো ফোটার আগেই ওই মূর্তির বিসর্জন দেন তিনি। সেই থেকে রাজার আমল পেরিয়ে বর্তমানেও এক রাতের রীতি মেনেই এই পুজো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তান্ত্রিক মতে বামা কালীপুজোর রাতে মানতের প্রচুর পাঁঠা বলি হয়। মাছ-মাংস দিয়ে অনুষ্ঠিত হয় কালীর ভোগ। এক প্রবীণ বাসিন্দা বিজয় সরকারের কথায়, দিনাজপুরের রাজার আমলে মন্দির তৈরি করে এই নিয়মে পুজো হয়ে আসছে। প্রায় ছ’শো বছরের প্রাচীন ও জাগ্রত মন্দিরবাসিনী কালীর পুজোয় মহিলাদের থাকায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই পুজোয় কোনও মহিলাকে মন্দিরে থাকতে তিনিও দেখেননি।