ডান হাতের কব্জি পর্যন্ত কাটা, মাথা থেঁতলানো। মাস চারেক আগে হুগলির আরামবাগের চাঁদুর জঙ্গল থেকে এ রকম অবস্থায় মনসারাম বাগ (৬৭) নামে এক বৃদ্ধের দেহ মিলেছিল। তাঁকে খুনের অভিযোগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হুগলিরই চণ্ডীতলার কৃষ্ণপুর থেকে শেখ সাহিদ ওরফে ডবর নামে এক যুবককে গ্রেফতার করল পুলিশ। আগেই চণ্ডীতলার একলাখি গ্রামে এক নির্মীয়মাণ বাড়ি থেকে মনসারামের কাটা হাতটি উদ্ধার হয়েছিল। পরে জানা যায়, বাড়িটি সাহিদের মামাশেখ বেদিয়ার।
পুলিশের দাবি, ধৃত অপরাধ কবুল করেছে। সে জানিয়েছে, শত্রুতা থাকায় মামাকে ফাঁসাতে ওই কাণ্ড ঘটায় সে। সাহিদ অতীতে এমন কোনও খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে কি না এবং তার মানসিক সুস্থতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।
মনসারামের বাড়ি আরামবাগের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের চাষিপাড়ায়। গত ২৩ জুন বিকেলে চাঁদুর জঙ্গলে গরু আনতে গিয়ে তিনি খুন হন। প্রত্যক্ষদর্শী এক মহিলা পুলিশকে জানিয়েছিলেন, দুষ্কৃতী এক জনকেই দেখেছেন তিনি। সে প্রথমে পিছন থেকে ইট দিয়ে মনসারামকে আঘাত করে। মনসারাম পড়ে গেলে তাঁর বুকে বসে গলা এবং মাথায় আঘাত করে। মহিলা বাধা দিতে গেলে তাঁকে খুনের হুমকি দিয়ে তাড়া করা হয়। তিনি পালিয়ে বৃদ্ধের বাড়িতে খবর দেন।
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, শত্রুতাবশত মামাকে এক বার বিষ খাইয়ে খুনের চেষ্টা করেছিল সাহিদ। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত জানিয়েছে, মামাকে ফাঁসাতে সে শিশু বা দুর্বল লোক খুঁজছিল খুনের জন্য। কিন্তু সব জায়গায় সিসি ক্যামেরা থাকায় পারছিল না। শেষে চাঁদুরে গিয়ে সফল হয়। মনসারামকে খুনের পরে তাঁর কাটা হাত নিয়ে ওই রাতেই মামার নির্মীয়মাণ বাড়িতে রেখে দেয় সাহিদ।