E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

‘বাবা’র ছবি-কাণ্ডে আরও গ্রেফতার, বিক্ষোভে কংগ্রেস

ধীরেন্দ্রকৃষ্ণের মন্তব্যের প্রতিবাদে এবং ধৃতদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে দলের রাজ্য দফতর বিধান ভবন এবং সাংগঠনিক জেলার দফতরগুলিতে সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপি ও রাজ্য সরকারকে নিশানা করেছেন কংগ্রেস নেতৃত্ব।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৬:০৭
বাগেশ্বর -কাণ্ডে গ্রেফতারের প্রতিবাদে বিক্ষোভে কংগ্রেস। মানিকতলায়।

বাগেশ্বর -কাণ্ডে গ্রেফতারের প্রতিবাদে বিক্ষোভে কংগ্রেস। মানিকতলায়। — নিজস্ব চিত্র।

দুর্গাপুজোর সময়ে নিরামিষ খাওয়ার নিদান দেওয়া বাগেশ্বরধামের ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর ছবি পুড়িয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন যাঁরা, তাঁদের গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিক্ষোভের ঘটনায় কংগ্রেসের কলকাতার নেতা অতনু দাসের পরে এ বার আসানসোলের অরূপ মুখোপাধ্যায়কে শুক্রবার গভীর রাতে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধীরেন্দ্রকৃষ্ণের ছবিকে অসম্মান করা হয়েছে, বিজেপির এই অভিযোগের ভিত্তিতে অরূপকে ধরেছে পুলিশ। তাঁকে শনিবার আসানসোল আদালতে তোলা হলে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। এই প্রেক্ষিতে দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়া বাঙালিকে ‘পাখণ্ডী’ (ভণ্ড) বলায় ধীরেন্দ্রকৃষ্ণের মন্তব্যের বিরুদ্ধে এবং দলের নেতাদের গ্রেফতারির প্রতিবাদে এ দিন শহর-সহ রাজ্যের নানা প্রান্তে প্রতিবাদের ঝাঁঝ বাড়িয়েছে কংগ্রেস। পাল্টা কংগ্রেসকে নিশানা করেছে বিজেপি-ও।

ধীরেন্দ্রকৃষ্ণের মন্তব্যের প্রতিবাদে এবং ধৃতদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে দলের রাজ্য দফতর বিধান ভবন এবং সাংগঠনিক জেলার দফতরগুলিতে সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপি ও রাজ্য সরকারকে নিশানা করেছেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেছেন, “বাবা বাগেশ্বরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অপরাধে আমাদের দু’জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। যাঁর বিরুদ্ধে আমরা এফআইআর করলাম, সেই বাগেশ্বর বাবাকে গ্রেফতার করা হল না। অথচ, মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় দাঁড়িয়ে যা বলে দিলেন, পুলিশ সেই মতো ব্যবস্থা নিচ্ছে। এর থেকে প্রমাণিত, রাজ্যে আইনের শাসন নয়, শাসকের আইন চলছে। পুলিশ দলদাস।”

দিনভর প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করেছে কংগ্রেস। উত্তর কলকাতা জেলা কংগ্রেস সভাপতি তারক পালের নেতৃত্বে কলকাতা পুলিশের ডিসি (নর্থ)-র দফতরে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে। ছিলেন দলের নেতা পূর্ণ ঘোষ, সুদীপ্তা রায়চৌধুরী প্রমুখ। মধ্য কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সভাপতি মানস সরকারের নেতৃত্বে ওয়েলিংটনে এবং হাওড়া গ্রামীণ জেলা কংগ্রেসের ডাকেও হয়েছে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ। দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সভাপতি প্রদীপ প্রসাদ, ইন্দ্ররাজ চট্টোপাধ্যায়দের নেতৃত্বে টালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে হয়েছে প্রতিবাদ মিছিল। একই সঙ্গে, ধীরেন্দ্রকৃষ্ণের বিরুদ্ধে প্রদেশ কংগ্রেসের সাংস্কৃতিক শাখার কো-চেয়ারপার্সন সুদীপ্তা পুলিশে অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ হয়েছে বাঁকুড়াতেও।

পাল্টা সরব হয়েছে বিজেপি-ও। রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, “বেআইনি কাজ করলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবেই। এই ভাবে রাস্তায় নেমে যাঁর খুশি ছবি পোড়ানো যায় না কি? উনি (ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ) ওঁর মত বলেছেন, আমি আমার মত বলেছি। খাওয়াদাওয়াটা যাঁর-যাঁর রুচির বিষয়। দেশে সংবিধান আছে। এত নাটক করার কী আছে? এই জন্য কংগ্রেস দলটার কিছু হবে না।” এরই মধ্যে, পাইকপাড়ার একটি ক্লাব জানিয়েছে, তাদের গণেশপুজোয় যোগ দিতে পারেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। পুজোর থিম, ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’। তা উপলক্ষে শমীককে ১০০ কিলোগ্রাম রুই মাছ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

বিজেপিকে বিঁধে টানা সরব সিপিএম-ও। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, “উনি (ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ) অসভ্যের মতো কথা বলেছেন। বাংলার মানুষকে অপমান করা হয়েছে। প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হবে না? মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেই গ্রেফতার শুরু। আসলে পুলিশের রাজনীতিকরণ সম্পূর্ণ হয়েছে। সরকার বাড়াবাড়ি করলে, বাংলার অপমানে বিরুদ্ধে হাজারে হাজারে এফআইআর হবে।”

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
police investigation Protest

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy