E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

‘আইএসআইয়ে নিখরচায় শিক্ষা আদর্শ নয়’

বিরোধীদের এক সুরে দাবি, এই বিল সংসদীয় কমিটিতে সবিস্তারে আলোচনার জন্য পাঠানো হোক।

প্রেমাংশু চৌধুরী

শেষ আপডেট: ০৬ অগস্ট ২০২৬ ০৮:০৬
আইএসআই কলকাতা।

আইএসআই কলকাতা। ফাইল চিত্র।

কলকাতায় ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিকাল ইনস্টিটিউটে পরিসংখ্যান বিজ্ঞানের স্নাতক, স্নাতকোত্তর স্তরে ছাত্রছাত্রীদের কোনও পড়াশোনার খরচ দিতে হয় না। বরং তাঁরা পড়াশোনার খরচের জন্য আর্থিক বৃত্তি পেয়ে থাকেন। কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষকর্তারা মনে করছেন, এটা কোনও ‘আদর্শ মডেল’ হতে পারে না।

এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধিকর্তা, শিক্ষক, গবেষক ও বিরোধীদের আপত্তি সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান মন্ত্রক লোকসভায় ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিকাল ইনস্টিটিউট বা আইএসআই পরিচালন ব্যবস্থার খোলনলচে পাল্টাতে নতুন বিল পেশ করেছে। মন্ত্রক সূত্রের খবর, নতুন আইন তৈরি হলে ভবিষ্যতে স্নাতক, স্নাতকোত্তর স্তরে পড়াশোনার ফি কত হবে, তা সংস্থার পরিচালন পর্ষদ ঠিক করবে। পরিসংখ্যান মন্ত্রকের কর্তাদের বক্তব্য, সরকার ফি বসাতে বলছে না। তবে সবাই নিখরচায় পড়াশোনা করবেন, বৃত্তিও পাবেন— এটা ‘আদর্শ মডেল’ হতে পারে না।

বুধবার দিল্লিতে আইএসআই বিলের বিরোধিতা করে কংগ্রেস, তৃণমূল, সিপিএম, সিপিআই-এমএল সাংসদেরা সাংবাদিক সম্মেলন করে অভিযোগ তুলেছেন, এই বিলে মোদী সরকার আইএসআই-এর স্বশাসনে হাত দিতে চাইছে। তাঁদের সঙ্গে আইএসআই-এর অধ্যাপক অরিজিৎ বিষ্ণু, দেবাশিস গোস্বামী, অরিজিৎ চক্রবর্তীও অভিযোগ তোলেন, আইএসআই পরিচালনার খোলনলচে পাল্টানোর আগে কেন্দ্রীয় সরকার আইএসআই-এর পরিচালনার তিনটি কাঠামো, সোসাইটি, পরিচালন পরিষদ, শিক্ষা পর্ষদ, কোনও স্তরেই আলোচনা করেনি। তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেন, “আমার লোকসভা কেন্দ্র দমদমের মধ্যে আইএসআই অবস্থিত। আমি পরিসংখ্যানমন্ত্রী রাও ইন্দরজিৎ সিংহের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। বলেছি, আইএসআই-এর শিক্ষক, ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলুন। কিন্তু সরকার তাতে রাজি নয়।” তাঁর দাবি, “এই বিল আইএসআই-এর স্বশাসন খর্ব করে, কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে আমলাতান্ত্রিক ষড়যন্ত্র।” বিরোধীদের এক সুরে দাবি, এই বিল সংসদীয় কমিটিতে সবিস্তারে আলোচনার জন্য পাঠানো হোক।

কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান মন্ত্রক সূত্রের বক্তব্য, জওহরলাল নেহরুর আমলের যে আইএসআই আইন রয়েছে, তা তুলে দিয়ে মোদী সরকারের নতুন আইনে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ অবশ্যই বাড়ছে। তবে তা সংস্থার উন্নতির জন্যই। যদিও বিল অনুযায়ী, আইএসআই-এর পরিচালন পর্ষদের ১১ জন সদস্যের মধ্যে ছ’জনই থাকবেন কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি বা পরোক্ষে কেন্দ্রের বাছাই করা। আইএসআই-এর ডিন-ও থাকছেন না সেখানে। মন্ত্রকের যুক্তি, আইএসআই-এর স্বশাসনে হাত পড়ছে না। কলকাতা বাদে দিল্লি, বেঙ্গালুরুতে যে কেন্দ্র রয়েছে, তাদের স্বশাসন দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে প্রশ্ন উঠেছে, প্রশান্তচন্দ্র মহালানবিশের তৈরি আইএসআই-এর সদর দফতর আর কলকাতায় থাকবে কি না। মন্ত্রক সূত্রের জবাব, কলকাতার আইএসআই কলকাতাতেই থাকবে।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Indian Statistical Institute

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy