ডাকা হয়েছিল সংক্ষিপ্ত বিশেষ অধিবেশন। এক দিনের সেই অধিবেশন শুরুর আগে বিধায়কদের হাতে বিল তুলে দেওয়া এবং বিধানসভায় আলোচনা শুরুর মধ্যে আধ ঘণ্টার ব্যবধান! ‘পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় প্রশাসন ও নিয়ন্ত্রণ (সংশোধনী) বিল,২০২৬’ নিয়ে এমন তাড়াহুড়োয় প্রশ্ন তুলল বিরোধীরা।
এক দিনের অধিবেশনের আগে বৃহস্পতিবার সকালেই ডাকা হয়েছিল সর্বদল এবং কার্য উপদেষ্টা (বি এ) কমিটির বৈঠক। সেই সময়েই সংশ্লিষ্ট বিল দেখতে পেয়েছেন বিভিন্ন পরিষদীয় দলের প্রতিনিধিরা। বৈঠকের পরেই অধিবেশনে বিল এনে শুরু হয়ে গিয়েছে বিতর্ক। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিল পাশ করানো সরকার পক্ষের কাছে কোনও সমস্যাই নয়, তবু বিধায়কদের কেন তৈরি হওয়ার সময় দেওয়া হল না— সেই প্রশ্নই তুলছে বিরোধীরা। তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে আগের সন্ধ্যায় বিলের প্রতিলিপি দিয়ে পরের সকালে বিল পেশের নজির ছিল। তখন প্রতিবাদ করেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপির জমানায় তৃণমূল আমলের সংস্কৃতিই আরও এগিয়ে যাচ্ছে বলে সরব বিরোধী শিবির! মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অবশ্য বলেছেন, “তাড়াহুড়ো কেন করতে হয়েছে তার কারণ, আপনারা জানেন, সমঝদার কা ইশারাই কাফি হ্যায়!”
বিলের বিতর্কে অংশগ্রহণ করে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, “সকাল সাড়ে ১০টায় বিলটা দেওয়া হয়েছে। সেই বিল নিয়ে ১১টায় যদি আলোচনা শুরু হয়, সেটাও গণতন্ত্রের পক্ষে সুস্থ কি না, ভেবে দেখার অনুরোধ করছি।” বিরোধী দলের সচেতক আখরুজ্জামানের বক্তব্য, ‘‘সরকার এই বিলটি তাড়াতাড়ি করে বিশেষ অধিবেশন ডেকে কেন আলোচনা করছে, বুঝতে পারলাম না। অধিবেশন শুরুর সময়, সকাল সাড়ে ১০টায় বিলটি হাতে পেয়েছি আমরা। ঠিক ভাবে পড়ার সময় পাইনি।” সিপিএমের বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমানও (রানা) বলেছেন, “সময় স্বল্প। কিন্তু বিষয় বৃহৎ।” তবে জবাবি বক্তৃতায় উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের মত, “আমরা নতুন কিছু বা তাড়াহুড়ো করে কিছু করছি না। পদ্ধতির দ্রুততা কিছু আছে। কিন্তু বিচারের দ্রুততা কিছু নেই।”