কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে ধরা দেননি বিতর্কিত বিডিও প্রশান্ত বর্মণ। বরং সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে তিনি সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন। কাল, মঙ্গলবার বিচারপতি অরবিন্দ কুমার ও বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চে সেই মামলার শুনানি হওয়ার কথা। এর আগে বিচারপতি রাজেশ বিন্দল ও বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোইয়ের বেঞ্চ প্রশান্তের আগাম জামিন খারিজ করে আত্মসমর্পণ করতে বলেছিল। সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে প্রশান্ত কী ভাবে ফের সুপ্রিম কোর্টে গেলেন এবং কেন তাঁর মামলা অন্য একটি বেঞ্চে শুনানি হবে, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন।প্রসঙ্গত, খুনের মামলায় অভিযুক্ত হয়ে এবং সুপ্রিম কোর্ট আগাম জামিনের আর্জি খারিজ করে ধরা দিতে বললেও প্রশান্ত সেই নির্দেশকে পাত্তা দেননি। তাঁকে গ্রেফতার করতে উদ্যোগী হয়নি পুলিশও। সম্প্রতি হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে নির্দেশ দেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রশান্তকে আত্মসমর্পণ করতে হবে। তাঁর বেতন বন্ধ এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশও দেয় হাই কোর্ট। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে প্রশান্ত সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।
আইনজীবীদের একাংশ বলছেন, আগের আর্জি (আগাম জামিন) শোনা বেঞ্চের বিচারপতি বিন্দল অবসর নিয়েছেন। তাই বিচারপতি বিন্দল এবং বিচারপতি বিষ্ণোইয়ের বেঞ্চ আর নেই। সে ক্ষেত্রে ওই একই বেঞ্চে শুনানি সম্ভব নয়। তাই মামলাটি কোন বেঞ্চে শুনানি হবে, সেটি নির্ধারণ করার ক্ষমতা একমাত্র প্রধান বিচারপতির হাতে। প্রবীণ আইনজীবী বিশ্বজিৎ দেবের মতে, “সুপ্রিম কোর্টের কোন মামলা কোন বেঞ্চে যাবে, সেটি স্থির করার ক্ষমতা প্রধান বিচারপতিকে দেওয়া আছে। এ ক্ষেত্রেও তিনি যে বেঞ্চকে উপযুক্ত মনে করেছেন, সেখানেই পাঠিয়েছেন।”
আইনজীবীদের একাংশ আবার বলছেন, যদি কোনও মামলার মাঝখানে কোনও বিচারপতি অবসর নেন, সে ক্ষেত্রে বেঞ্চের অন্য বিচারপতি যে বেঞ্চে থাকেন, সেখানেই মামলাটি পাঠানো হয়। এটাই রীতি। তবে প্রশান্তর মামলা কেন নতুন এজলাসে গেল, সেই ব্যাপারেও আইনজীবীদের সূত্রে ব্যাখ্যা মিলেছে। তাঁদের মতে, আগাম জামিনের আর্জি খারিজের সঙ্গে সঙ্গে সেই মামলার নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। কাজেই এই বার প্রশান্ত যে মামলা করেছেন, সেটি নতুন এবং হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের নির্দেশের বিরুদ্ধে। কাজেই এই মামলাটি আগের বেঞ্চের বিচারপতির কাছে পাঠাতে হবে, এমন নিয়ম নেই।
আইনজীবী বিক্রম বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, “সুপ্রিম কোর্টে চার-পাঁচটি বেঞ্চ ফৌজদারি মামলার জন্য নির্ধারিত থাকে। তাদের মধ্যে একটিতে প্রধান বিচারপতি মামলা পাঠাতে পারেন। অনেক সময় একই মামলায় নির্দেশের ক্রমান্বয় বজায় রাখতে একই বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। নতুন মামলা হলে অন্য বেঞ্চে দেওয়া যেতেই পারে।”