পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ চলবে না, বৈধ ভোটারদের নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত করা এবং সবার জন্য স্থায়ী কাজ— এই তিন দফা দাবিতে সংগঠনের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার, রাজ্য জুড়ে পথে নামল ডিওয়াইএফআই। সিপিএমের যুব সংগঠনটি জেলা স্তরে জেলাশাসক, রেল প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসনের কাছে দাবিপত্রও দিয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্যের নানা প্রান্তে সিপিএমের শ্রমিক সংগঠন সিটু-সহ বিভিন্ন বাম গণসংগঠনের উদ্যোগে উচ্ছেদ-বিরোধী আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।
কলকাতায় ফেয়ারলি প্লেসে পূর্ব রেলের প্রধান দফতরে দাবিপত্র দিয়েছে ডিওয়াইএফআই। পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজারের সঙ্গে দেখা করে হকার-পুনর্বাসন, রেলের যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, রেলের সব শূন্য পদে নিয়োগের মতো বিভিন্ন দাবি তুলেছেন ডিওয়াইএফআই-এর কলকাতা জেলা নেতৃত্ব। বারুইপুরে মহকুমাশাসকের দফতরে দাবিপত্র দেওয়ার কর্মসূচি এবং মিছিলে ছিলেন সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক ধ্রুবজ্যোতি সাহা। হিন্দমোটরে বিভিন্ন বাম শ্রমিক সংগঠনের আয়োজিত বিক্ষোভসভায় যোগ দিয়ে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের তোপ, “আগে হকারদের জায়গা দিতে হবে। না-হলে আমরা (দোকান) ভাঙতে দেব না। যাঁরা মনে করেন হকারদের জন্য স্টেশন ঘিঞ্জি, তাঁরা গরিব মানুষের জন্য কাজ ও আয়ের উৎস তৈরি করে দিন।” হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রের বিজেপি এবং গত ১৫ বছর রাজ্য চালানো তৃণমূল কংগ্রেস কোনও আইনি করেনি বলে অভিযোগ তুলেছেন মীনাক্ষী। সেই সঙ্গে, তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যে বাম-আমলে আইন ছিল, যেখানে বলা হয়েছিল, পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ করা যাবে না। উত্তর ২৪ পরগনার মছলন্দপুরেও এ দিন প্রতিবাদ মিছিল ও সভা হয়েছে।
পথের প্রতিবাদে রয়েছে কংগ্রেসও। বিধাননগর স্টেশন লাগোয়া এলাকায় উচ্ছেদের প্রতিবাদে উত্তর কলকাতা জেলা কংগ্রেস সভাপতি তারক পালের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলে ছিলেন তন্দ্রা পাল, বলরাম সাহা, সুদীপ্তা রায়চৌধুরীরা। যোগ দিয়েছিলেন হকারেরাও। ‘বুলডোজ়ার-রাজ’ বন্ধের আর্জি জানিয়ে হকার, রেল হকার, কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনগুলি আজ, বুধবার ফেয়ারলি প্লেসে দুপুর ২টো জমায়েতের ডাক দিয়েছে। ওই দিন একই বিষয়ে এবং নিট-কাণ্ডে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে লোকভবন (সাবেক রাজভবন) অভিযানের ডাক দিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস।