ঘুঘু পাখির ছানা হবে। পুজো মণ্ডপের বাঁশেই তারা বাসা বেঁধেছে। ডিম পেড়েছে। তাই হুগলির চুঁচুড়ার সুকান্তনগরে সুকান্ত স্মৃতি সঙ্ঘের দুর্গাপুজোর মণ্ডপ এখনই পুরোপুরি খোলা হচ্ছে না।
সাঁচী স্তূপের আদলে এ বার মণ্ডপ হয়েছিল। কর্মকর্তারা জানান, পুজোর দিন পনেরো আগে বাঁশের কাঠামোয় বাসা বাঁধে ঘুঘু। সিলিং তৈরির সময়ে দেখা যায়, চারটি ডিম। তা দেখে ত্রিপল না টাঙিয়ে বাসার উপরের অংশ ফাঁকা রেখে বাকিটা পাতলা কাপড়ে ঢেকে দেওয়া হয়। এখন তাঁরা ঠিক করেছেন, মণ্ডপের উপরের দিক আপাতত রেখে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধার জন্য একাংশ খুলে দেবেন। সে কথা পুলিশকেও মৌখিক ভাবে জানিয়েছেন তাঁরা।
ক্লাব সদস্যেরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যত দিন না ডিম ফুটে ছানা বেরোচ্ছে, ডানা মেলে উড়তে শিখছে, তত দিন মণ্ডপের ছাদে হাত দেবেন না। সহমত পাড়ার অন্যরাও। ক্লাব-সদস্য মনোজ মণ্ডল বলেন, “ডিম ফুটে বাচ্চা বেরিয়ে উড়তে না শেখা পর্যন্ত মণ্ডপ খুলব না। প্রয়োজনে বিকল্প নিরাপদ জায়গার ব্যবস্থা করব।” আর এক সদস্য শ্যামল মজুমদারের কথায়, “বাসাটা নষ্ট করতে চাই না।” স্থানীয় বাসিন্দা স্বপন পাল বলেন, “যাতায়াতে অসুবিধা না হলে কারও সমস্যা হওয়ার কথা নয়।” স্থানীয় বাসিন্দা অপর্ণা চক্রবর্তীর কথায়, “পাখির ছানা আকাশে ওড়ার পরেই প্যান্ডেলের ওই অংশ খোলা হোক। সবাই আগলে রাখব।”
পাখি বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, কিছু প্রজাতির পাখি মানুষের সান্নিধ্যে বাসা বাঁধে। ঘুঘু তেমনই। শিকারি পাখি ও প্রাণীদের থেকে ডিম এবং ছানাদের সুরক্ষা দেয় মানুষের উপস্থিতি। পাখিদের জন্য কৃত্রিম বাসা তৈরি করে গাছে ঝুলিয়ে দেন চণ্ডীতলার হিন্দোল আহমেদ। তিনি বলেন, “এটা মানবিকতা এবং পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা। উৎসবেরও সার্থকতা।”
তথ্য সহায়তা: প্রকাশ পাল।