E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

ইন্দ্রনীলের ‘দুর্নীতিতে’ কাউন্সিলর যোগে প্রশ্ন

ইডির দাবি, ২০২৩ থেকে ২০২৫ ইন্দ্রনীলের স্ত্রীর সংস্থার মাধ্যমে ৬০-৭০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছিল বলে প্রাথমিক তথ্য উঠে এসেছে।

শুভাশিস ঘটক

শেষ আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০২৬ ০৭:৪৯
ইন্দ্রনীল সেন।

ইন্দ্রনীল সেন। — ফাইল চিত্র।

ইউনেস্কোর লোগো ব্যবহার করে দুর্গাপুজোর ভিআইপি পাস এবং চড়া দামে পুজোর প্রিভিউ শোর টিকিট বিক্রির দুর্নীতির টাকার একটি বড় অংশ প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন মারফত তাঁর ঘনিষ্ঠ কলকাতা পুরসভার তৎকালীন এক কাউন্সিলরের মাধ্যমে নির্মাণ ব্যবসায় বিনিয়োগ হয় বলে প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে দাবি ইডির। ওই মামলায় এখন কলকাতা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন ইন্দ্রনীল।

ইডির দাবি, ২০২৩ থেকে ২০২৫ ইন্দ্রনীলের স্ত্রীর সংস্থার মাধ্যমে ৬০-৭০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছিল বলে প্রাথমিক তথ্য উঠে এসেছে। ওই দুর্নীতিতে ইন্দ্রনীলের পরিবারের সদস্য এবং ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী-সহ কয়েক জন প্রভাবশালীও লাভবান হয়েছেন বলে দাবি তদন্তকারীদের।

তদন্তকারীদের কথায়, ইন্দ্রনীল কসবা এলাকার বাসিন্দা। দুর্নীতির কালো টাকা সাদা করার জন্য তাঁর ঘনিষ্ঠ কলকাতা পুরসভার এক প্রাক্তন কাউন্সিলরের মাধ্যমে কসবা এলাকার বিভিন্ন নির্মাণ ব্যবসায়ীর কাছে বিনিয়োগ করেছিলেন। তদন্তকারীদের কথায়, দুর্নীতির ওই কালো টাকা নির্মাণ ব্যবসায় বিনিয়োগ করে তার লভ্যাংশের কিছুটা ওই কাউন্সিলর নিয়েছিলেন। কারণ নির্মাণ ব্যবসায়ীদের কাছে বিনিয়োগের টাকার দেখাশোনা করতেন ওই কাউন্সিলর। বিনিয়োগ করার পরে ব্যবসায়ীর লাভের একটি অংশ ওই কাউন্সিলর নিজের কাছে রেখে দেন বলে প্রাথমিক তথ্য মিলেছে।

তদন্তকারীদের কথায়, রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ওই কাউন্সিলরকেও দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার করেছিল কলকাতা পুলিশ। ওই মামলায় এখন জামিনেরয়েছেন তিনি।

তদন্তকারীরা জানান, আপাতত ইন্দ্রনীল ও তাঁর স্ত্রীর সংস্থার নামে থাকা তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ২০২৩ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত বেশ কয়েক কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে বলে তথ্য মিলছে। ওই তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের আর্থিক লেনদেনের সমস্ত তথ্যের খুঁটিনাটি যাচাই করা হয়েছে। কয়েকটি জায়গায় বিভিন্ন নির্মাণ ব্যবসায়ী মারফত আর্থিক লেনদেন হয়েছিল বলেও তথ্য মিলছে।

ইডির দাবি, দুর্নীতির কালো টাকা ইন্দ্রনীলের স্ত্রীর নামের সংস্থা নানা ভাবে সাদা করেছিল। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পরিজন ও ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে তা বিনিয়োগ করা বা সরানো হয়। পরবর্তী পর্যায়ে ভুয়ো সংস্থা খুলে তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাচার করা হয়েছিল। আবার সেই টাকা নিজেদের সংস্থায় ফেরানো হয়েছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে প্রভাবশালীদের সরাসরি ওই সংস্থার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা দেওয়া হয়েছে বলেও তথ্য মিলেছে। আপাতত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩০ লক্ষ টাকা জমা হওয়ার নথি পাওয়া গিয়েছে। আরও কয়েক জন প্রভাবশালীকেও টাকা দেওয়া হয়েছিল বলে প্রাথমিক তথ্য সূত্র হাতে এসেছে। তা যাচাই করা হচ্ছে।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
indranil sen ED

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy