রাজ্য সরকারের বিদ্যুৎ উৎপাদক সংস্থা দুর্গাপুর প্রজেক্টস লিমিটেডের (ডিপিএল) ‘কুলিং টাওয়ার’ থেকে পড়ে মৃত্যু হল দুই ঠিকাকর্মীর। বুধবার সকালে প্রায় দু’শো ফুট উপর থেকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান উমেশ সাউ (৪৯) ও সিন্টুকুমার ঘোষ (৫৪) নামে ওই দু’জন। দুর্ঘটনার পরে, সংস্থার দেওয়া সুরক্ষা-সামগ্রীর মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ডিপিএল কর্তৃপক্ষ যদিও সে অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
ডিপিএল সূত্রে জানা গিয়েছে, সংস্থার ৭ নম্বর কুলিং টাওয়ারে কাজ করতে উঠেছিলেন ওই দুই কর্মী। সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ ‘সেফটি বেল্ট’ ছিঁড়ে পড়ে যান তাঁরা। এক জনের একটি হাত কেটে কুলিং টাওয়ারের উপরের রেলিংয়ে আটকে যায়। অন্যেরা তাঁদের উদ্ধার করার পরে, ডিপিএল হাসপাতালের চিকিৎসক দু’জনকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘের (বিএমএস) জেলা সম্পাদক মৃন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, “সেফটি বেল্টের গুণমান ঠিক থাকলে, কর্মীরা ঝুলে থাকতেন। ছিঁড়ে পড়ে যাওয়ার কথা নয়। উপযুক্ত সুরক্ষাবিধি মানলে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটত না।” মৃতদের পরিবারকে ১৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ এবং এক জন নিকটাত্মীয়কে স্থায়ী চাকরি দেওয়ার দাবি জানান তাঁরা। এ দিন ডিপিএলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) শৈবালকান্তি দাসের সঙ্গে কথা বলেন দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষকে। বিকেলে মৃতদের পরিবারকে ১৫ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক ও শেষকৃত্যের জন্য ৬০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। ডিপিএলের জনসংযোগ আধিকারিক স্বাগতা মিত্র যদিও বলেন, “প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাবিধি মানা হয়েছিল। তবু কেন দুর্ঘটনা ঘটল, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”