দুর্গাপুজোর সময়ে বামপন্থী দলগুলির বইয়ের স্টল খোলা ঘিরে হামলা এবং বাধা দেওয়ার অভিযোগ অব্যাহত। টানা চলছে বামেদের প্রতিবাদও। উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয় সিপিএম বইয়ের স্টল দিতে পারবে এবং সে জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি দেওয়ার জন্য পুলিশকে যে দিন নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট, সে দিনও স্টল ঘিরে চাপান-উতোর চলল। বামেদের তোলা অভিযোগে আমল দেয়নি বিজেপি।
স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় দাঁড়িয়ে দুর্গাপুজো না-বললে, বামেদের বইয়ের স্টল করতে না-দেওয়ার ফরমান দিয়েছিলেন। বামেদের অভিযোগ, সেই প্রেক্ষিতেই লাগাতার হামলা চলছে। এই পরিস্থিতিতে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেছেন, “উৎসবে বই প্রকাশ এবং বিক্রি বাংলার সংস্কৃতির অংশ। গত ৭৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই রাজ্যে শারদোৎসবের সময়ে বই, পত্রিকার শারদ সংখ্যা প্রকাশ, বিক্রি করা হয়। বইয়ের স্টলে বাধাদানের বিরুদ্ধে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ থেকে শিক্ষা নিয়ে আরএসএস-বিজেপি বুঝুক, বাংলার এই পরম্পরা কারও ইচ্ছাপূরণের জন্য শেষ করা যাবে না।” এরই মধ্যে ‘শারদোৎসবে শান্তি-শৃঙ্খলা, সম্প্রীতি সুষ্ঠু ভাবে রক্ষা করার’ জন্য আবেদন জানিয়েছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু।
তবে স্টলকে ঘিরে অশান্তি ও প্রতিবাদ, দুই-ই চলছে সমান তালে।সিপিএম, সিপিআই (এম-এল) লিবারেশন এবং এসইউসি-র অভিযোগ, যথাক্রমে তাদের মানিকতলা মেন রোডের স্টলের ব্যানার ছেঁড়া, বেহালা চৌরাস্তায় স্টল ‘দখল’ এবং শ্যামবাজারে ফ্লেক্স ছেঁড়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। মানিকতলার ঘটনা নিয়ে ফুলবাগান থানায় সিপিএম দাবিপত্র দিয়েছে। হাওড়ার শিবপুরে সিপিএমের নির্মীয়মাণ স্টলে ভাঙচুর হয়েছে বলেও অভিযোগ। কসবায় দলের একটি স্টল ভেঙে দেওয়া হলেও, কিছু ক্ষণের মধ্যেই তা ফের তৈরি করা হয় বলে জানিয়েছে সিপিএম। পাশাপাশি, ঢাকুরিয়ায় স্টল তৈরির সময়ে দলের নেতাদের উপরে হামলার অভিযোগকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবারও লেক থানার সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন লিবারেশন-সহ নানা বাম দলের নেতৃত্ব। বেহালার ঘটনাকে সামনে রেখে ঠাকুরপুকুর থানায় গিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন লিবারেশন নেতৃত্ব। এসইউসি-র কলকাতা জেলা সম্পাদক নভেন্দু পালের অভিযোগ, বিধাননগরের অন্তত তিন জায়গায়, কেষ্টপুর, বরানগরে স্টল করতে দেয়নি পুলিশ। তবে খিদিরপুরে স্টল তৈরিতে বাধা দেওয়া হলেও ‘জনসাধারণের চাপে বিজেপির দুষ্কৃতীরা পিছু হটে’ বলে জানিয়েছে এসইউসি।
বামেদের পাশাপাশি মমতা-তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষের বক্তব্য, “কোথাও কারও বইয়ের স্টলে বাধা হওয়া উচিত নয়। মতাদর্শগত ফারাক থাকতেই পারে। বইয়ের পাল্টা বই প্রকাশ করা হোক। যাঁরা অপত্তি করছেন, তাঁরাও স্টল করে সে বই মানুষের কাছে পৌঁছে দিন। তৃণমূল কংগ্রেসের সময় এই সব কিন্তু হয়নি!”
দিল্লিতে সিজেপি-র দুই নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কার গ্রেফতারের ঘটনাতেও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান।