নতুন প্রযুক্তিনির্ভর ‘স্মার্ট পিডিএস’ ব্যবস্থা চালু হতেই রেশন বণ্টনে দেখা দিয়েছে ব্যাপক সমস্যা। সার্ভার এবং ব্যাকএন্ড সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার থেকে কার্যত ব্যবস্থা অচল হয়ে রয়েছে বলে অভিযোগ। এর জেরে রেশন প্রাপ্য থাকা সত্ত্বেও বহু উপভোক্তাকে খাদ্যশস্য দিতে পারছেন না রেশন ডিলাররা। পরিস্থিতি সামাল দিতে অবিলম্বে হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে রাজ্যের খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের সচিব জগদীশ প্রসাদ মিনাকে কে চিঠি দিয়েছে ‘অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশন’।
শুক্রবার খাদ্যসচিবের উদ্দেশে লেখা ওই চিঠিতে সংগঠনের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু জানিয়েছেন, ‘স্মার্ট পিডিএস’ চালুর প্রাথমিক পর্যায়ে প্রযুক্তিগত সমস্যা হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু বর্তমানে সার্ভার ঠিকমতো কাজ না-করায় রেশন বণ্টন কার্যত ব্যাহত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে উপভোক্তা ও রেশন ডিলার— দু’পক্ষের উপরেই। সংগঠনের অভিযোগ, রেশন দিতে না পারায় রেশন দোকানগুলিতে উপভোক্তাদের ক্ষোভ বাড়ছে। অথচ এই পরিস্থিতির জন্য ডিলারদের কোনও ভূমিকা নেই। দফতরের সার্ভার এবং সিস্টেমের সমস্যার কারণেই লেনদেন সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। ফলে উপভোক্তাদের মধ্যে যেমন বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে, অন্য দিকে তেমন ডিলারদেরও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
এমন পরিস্থিতিতে সংগঠনের তরফে দু’টি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে। সার্ভার স্বাভাবিক না-হওয়া পর্যন্ত উপভোক্তাদের ভিডিয়ো রেকর্ড করে এবং তাঁদের মোবাইল নম্বর সংরক্ষণ করে রেশন দেওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। বিকল্প হিসেবে, সরকারি বিজ্ঞপ্তি বা প্রচারের মাধ্যমে উপভোক্তাদের জানিয়ে দেওয়ার দাবি উঠেছে যে, প্রযুক্তিগত সমস্যার জন্য রেশন বণ্টন ব্যাহত হচ্ছে এবং এর জন্য ডিলারেরা দায়ী নন। প্রয়োজনে সিস্টেম স্বাভাবিক না-হওয়া পর্যন্ত ফেয়ার প্রাইস শপ বন্ধ রাখার অনুমতিও চেয়েছে সংগঠন।
শুধু সার্ভার বিভ্রাট নয়, ‘দুয়ারে রেশন’ প্রকল্প নিয়েও সমস্যার কথা চিঠিতে তুলে ধরা হয়েছে। প্রকল্পটি এখনও চালু থাকায় ডিলারদের নির্দিষ্ট ক্লাস্টারে গিয়ে রেশন বণ্টন করতে হচ্ছে। কিন্তু ‘স্মার্ট পিডিএস’ কাজ না করায় সেখানে গিয়ে লেনদেন সম্পূর্ণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে যাতায়াত এবং অন্যান্য খরচ বহন করেও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন ডিলাররা। এছাড়া কয়েকটি রেশন দোকানে ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছ থেকে খাদ্যশস্য পৌঁছোলেও প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে ডিজিটাল চালান তৈরি করা যাচ্ছে না। ফলে ডিলারদের ই-পিওএস যন্ত্রে সেই মজুত গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে রেশন বণ্টন ব্যবস্থায় আরও জটিলতা তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় প্রযুক্তিগত সমস্যা দ্রুত সমাধানের পাশাপাশি ডিলারদের বিরুদ্ধে কোনও প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে সংগঠন। একই সঙ্গে উপভোক্তাদের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাত, আর্থিক ক্ষতি এবং অযথা হয়রানি থেকে ডিলারদের সুরক্ষার জন্য খাদ্য দফতরের জরুরি হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।