E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

অন্নপূর্ণা নিয়ে ক্ষোভ, সরকারি শিবিরে ভাঙচুর

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের প্রচারে বিরুলিয়ায় জনসভায় এ দিন বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘নথি যাচাই চলছে। যোগ্য সবাই অন্নপূর্ণার টাকা পাবেন। এক জনকেও বঞ্চিত করব না।’’

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৫:৩৬
অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে বিক্ষোভ মহিলাদের। সোনারপুর রবীন্দ্রভবনে সেবা সেতু শিবিরে। শুক্রবার।

অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে বিক্ষোভ মহিলাদের। সোনারপুর রবীন্দ্রভবনে সেবা সেতু শিবিরে। শুক্রবার। ছবি: শশাঙ্ক মণ্ডল।

মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিলেও পুজোর মাসে জিইয়ে থাকল অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়ার ক্ষোভ। আবেদন করে টাকা না পাওয়ার অভিযোগে শুক্রবার সরকারের ‘সেবা সেতু জনকল্যাণ’ শিবিরে উত্তেজনা ছড়াল রাজ্যের নানা প্রান্তে। উত্তেজনার আর এক কারণ, সে শিবিরে অন্নপূর্ণা প্রকল্পের ফর্ম জমা দিতে না পারা। তবে রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণমন্ত্রী মালতী রাভা রায়ের বক্তব্য, ‘‘আলাদা করে নতুন ফর্ম দেওয়ার স্টল শিবিরে রাখা হয়নি। পুরনো আবেদনকারীদের মধ্যে যোগ্যেরা সবাই যোজনার আওতায় আসার পরে, নতুন ফর্ম নেওয়া হবে৷’’

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের প্রচারে বিরুলিয়ায় জনসভায় এ দিন বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘নথি যাচাই চলছে। যোগ্য সবাই অন্নপূর্ণার টাকা পাবেন। এক জনকেও বঞ্চিত করব না।’’ তবে তার আগে, এ দিন সকালে শিবিরে অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন জমা নেওয়ার ব্যবস্থা না দেখে রামপুরহাট ১ ব্লকের কিসান মান্ডিতে সরকারি শিবিরে টেবিল উল্টে বিক্ষোভ দেখান মহিলারা। সরকারি প্রকল্পের প্রচারের ফ্লেক্সও ছেঁড়েন। একই ধরনের ক্ষোভে মালদহের রতুয়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং, হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরের শিবিরে চেয়ার-টেবিল উল্টে দেওয়া, ভাঙচুর হয়। মালদহে পাঁচ জনকে আটক করে পুলিশ। অবরোধ হয় আলিপুরদুয়ার, উত্তর ২৪ পরগনা, মালদহ, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, হুগলিতে। বিক্ষোভ হয় জেলায়-জেলায়।

নদিয়ার শান্তিপুর ব্লক অফিসে বিক্ষোভকারীদের অন্যতম তুহিনা খাতুনের দাবি, আবেদন করার পরে অন্নপূর্ণা যোজনায় প্রথম বার টাকা পেয়েছিলেন। কিন্তু তার পরে টাকা বন্ধ। তাঁর ক্ষোভ, ‘‘যোগ্য থেকে অযোগ্য হয়ে গেলাম কী ভাবে!’’ শিবিরে বহরমপুরের বিজেপি বিধায়ক সুব্রত মৈত্রকে সামনে পেয়ে বিক্ষোভ দেখান মহিলারা। পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন বিজেপি বিধায়ক অমল পাণ্ডা।

পূর্ব বর্ধমানের মেমারি ২ ব্লকে বিক্ষোভ চলাকালীন যুগ্ম বিডিও কুন্তল মণ্ডলএক নিরাপত্তারক্ষীকে বিক্ষোভকারী মহিলাদের নাম লিখে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং কী করে তাঁরা টাকা পান, তা দেখবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বলে অভিযোগ। পরে এ বিষয়ে ওই আধিকারিকের বক্তব্য, ‘‘কর্তৃপক্ষ কিছু জানতে চাইলে, জানাব।” সমাজমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিয়োয় আবার মেমারির বিজেপি বিধায়ক মানব গুহকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাকে যাঁরা ভোট দিয়েছেন, তাঁরা অন্নপূর্ণা পাবেন’। পরে তাঁর দাবি, ‘‘পঞ্চায়েতে এখনও তৃণমূলের অনেক আছেন, তাই কিছু সমস্যা হচ্ছে।’’

মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘‘এটা মানুষের সঙ্গে প্রতারণা। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা যদি শর্তাধীন হবে, তা হলে সে কথা নির্বাচনের আগে বলে মানুষের রায় নেওয়া হল না কেন?’’ সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর মন্তব্য, ‘‘মানুষের ক্ষোভ স্বাভাবিক। সেই স্বাভাবিক ক্ষোভ থেকে সরকার নজর ঘোরাতে চাইছে।’’ তবে মন্ত্রী মালতী রাভা রায়ের দাবি, ‘‘ইতিমধ্যে দেড় কোটির বেশিকে অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় আনা হয়েছে। বাকি যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের নথি যাচাই চলছে। প্রত্যেক মাসে উপভোক্তা বেড়েছে। এটা সবাইকে বুঝতে হবে৷’’

পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা ২ ব্লকের সরকারি শিবিরে আসা অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদনকারী মহিলাদের নথিপত্র ঠিকঠাক রয়েছে কি না, এ দিন দেখে দিচ্ছিলেন বিজেপির মহিলা মোর্চার ঝাড়গ্রাম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শম্পা ভট্টাচার্য। তিনিও অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদন করে টাকা পাননি। শম্পা বলেন, ‘‘অপেক্ষা করা ছাড়া, উপায় কি!’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
demand Government Schemes

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy