সাম্প্রতিক সময়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, এসআরএফটিআই-সহ রাজ্যের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নানা অশান্তির ঘটনা ঘটেছে। এই প্রেক্ষিতে যাদবপুরে এসে বাম ছাত্র সংগঠনগুলির ডাকা ‘জেন জ়ি আন্দোলন: প্রজন্ম ও প্রতিরোধের ঐক্য’ বিষয়ে কনভেনশনে যোগ দিয়ে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত বিতর্ককে সামনে রেখে জনাদেশটাই ‘ভুয়ো’ বলে বিজেপিকে আক্রমণ করলেন আইসা-র সর্বভারতীয় সভানেত্রী নেহা বোরা। পক্ষান্তরে, বিশ্ববিদ্যালয়ে কনভেনশন আয়োজনের আইনি অনুমতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে উপাচার্যকে দাবিপত্র দিয়েছে আরএসএস-এর ছাত্র সংগঠন এবিভিপি।
কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতি ২০২০, এনটিএ, এসআইআর, আইএসআই-বিল বাতিল এবং ‘স্কুল বাঁচাও, শিক্ষা বাঁচাও’য়ের কথা বলে ছাত্র সংগঠনগুলি সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কে পি বসু মেমোরিয়াল সভাঘরে কনভেনশন করেছে। সভাঘরের তুলনায় শ্রোতাদের সংখ্যাধিক্যের কারণে সম্মেলনের মাঝ-পথে তা সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় গান্ধী ভবনের সামনে। সেখান থেকেই পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক নানা অশান্তি, এসআইআর-বিতর্ক এবং বিপ্রতীপে বাম-ঐক্যকে রেখে নেহা বলেছেন, “আরএসএস, বিজেপি বাংলাকে রক্তাক্ত করতে চাইছে। ওঁরা জনাদেশের গর্বে হিংসার ছাড়পত্র পেয়েছেন বলে ভাবছেন। কিন্তু জনাদেশটাই ভুয়ো! এটি গণতন্ত্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। এর বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রথম সারিতে এক জোট হয়ে থাকবেন বামপন্থীরা।” ভোটাধিকার ‘ছিনিয়ে নেওয়া আদতে গণতন্ত্রের মর্মস্থলে আঘাত’ বলেও মন্তব্য করেছেন নেহা। প্রসঙ্গত, দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হয়ে রবিবার রাতে মুক্তি পেয়েছিলেন নেহা। তার পরে এ দিন শহরে পৌঁছলে বিক্ষোভের আশঙ্কায় কলকাতা বিমানবন্দর থেকে নেহাকে সন্তর্পণে যাদবপুরে পৌঁছে দিয়েছেন বাম কর্মী-সমর্থকেরা।
এসআইআর-এ ভোটাধিকার আক্রান্ত বলে অভিযোগ তুলে এবং সাম্প্রতিক আন্দোলনের কথা স্মরণ করে এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্যও বলেছেন, “রাষ্ট্র ও পুলিশ সম্পর্কে যে ভয়, তা জেন জ়ি সম্পূর্ণ দূর করে দিয়েছে। এটা প্রেরণার।”
উল্টো দিকে, কনভেনশনের জন্য সভাঘর ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া এবং কনভেনশনে ‘বহিরাগত’দের উপস্থিতির কথা বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে দাবিপত্র দিয়েছে এবিভিপি। সংগঠনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি নিখিল দাসের অভিযোগ, “সভার অনুমতি নিতে রেজিস্ট্রারকে আবেদন করা হলেও, সেটা তাঁর কাছে পৌঁছয়নি। উপাচার্য, রেজিস্ট্রারকে এড়িয়ে সেই অনুমতি দিয়েছে কোনও এক কমিটি। অনুমতি চেয়ে যে আবেদনপত্র, তাতে বক্তাদের নাম ছিল না এবং যে বিষয় বলা হয়েছিল, বাস্তবে তা-ও পাল্টে দেওয়া হয়েছে।” কনভেনশনকে ‘ফ্লপ শো’ আখ্যা দিয়ে নিখিলের সংযোজন, “নেহারা যে সব প্রশ্ন তুলছেন, তার উত্তর দেওয়ার জন্য জ্ঞানেশ কুমার বা অমিত শাহকে দরকার নেই। সরাসরি প্রকাশ্য বিতর্ক হোক, আমরাই উত্তর দিয়ে দেব।”
বাম-কনভেনশনে বক্তৃতা করেছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সংগঠনের তরফে শিল্পীআফরিন, সিজেপি-র পশ্চিমবঙ্গের আহ্বায়ক দেদীপ্য গঙ্গোপাধ্যায়, এসআরএফটিআই এবং আইএসআই-এর ছাত্রদের তরফে যথাক্রমে শুভম, ব্লসম এবং উদ্ভাস দাস-সহ অন্যেরা। ছিলেন ডিএসও, পিএসইউ, ডিওয়াইএসএ, পিডিএসএফ-এর প্রতিনিধিরাও। উদ্ভাসের অভিযোগ, “বিলের মাধ্যমে আইএসআই-কে আইআইটি, আইআইএম করতে চায় সরকার। কিন্তু ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে পড়ার জন্য শিক্ষা-ঋণ নিতে হয়। আইএসআই উল্টো পথে চলে। আমরা চাই, আর্থিক কারণে যেন কেউ শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না-হন।” পাশাপাশি, দেদীপ্য জানিয়েছেন, আগামী দিনে রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে তাঁরা বড় কর্মসূচি করতে পারেন।
বিরাটিতে কয়েক দিন আগে এসএফআইয়ের সভাস্থলে ‘হামলা’র প্রতিবাদে শিয়ালদহ থেকে কলেজ স্ট্রিট পর্যন্ত এ দিন মিছিল করে বিক্ষোভ দেখিয়েছে সিপিএমের ছাত্র সংগঠন। এরই মধ্যে, ওই ঘটনায় ধৃত এসএফআই-এরই জেলা সম্পাদক আকাশ করের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছেন বিচারক। পাশাপাশি, ব্যাঙ্কশাল আদালতে ডিম ছোড়ার প্রতিবাদ করায় আইনজীবীদের মারধরের প্রতিবাদে ডালহৌসিতে পথ অবরোধ করেছেন আইনজীবীদের একাংশ।